× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সংকটে ঐক্যবদ্ধ সংসদ

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:১৮ এএম

দেশের চলমান জ্বালানি পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দেশের চলমান জ্বালানি পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দেশের চলমান জ্বালানি পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানান বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানও।

দেশের সংকটকালে সরকারি ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিরল সংস্কৃতির যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। তারেক রহমান সৃষ্টি করলেন নতুন ধারাÑ সংঘাতের হাওয়া ঘুরে গেল শান্তির পথে।

আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, উন্নত সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের দেশগুলো জাতীয় সংকটে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে এমন এক রাষ্ট্রীয় চর্চার দিকে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবনে তিনি যুক্তরাজ্যের উন্নত সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। এখন বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশেও যার প্রবর্তন করতে যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শেষে ফ্লোর নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার বিরোধীদলীয় নেতা একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিলেন। আমরা সবাই আলোচনা করে একমত হয়েছিলাম, কারণ এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। সারা বিশ্বে এই সমস্যা ছড়িয়ে পড়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা তার বক্তব্যে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা যৌক্তিক। তারা প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে সরকারি ও বিরোধী দল মিলে একসাথে কাজ করতে পারি। সেই প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশের স্বার্থে এই আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে আমাদের পক্ষ থেকে একটি কমিটির প্রস্তাব করছি। আমরা ৫ সদস্যের নাম দিচ্ছি। বিরোধী দলকে অনুরোধ করব তারাও যদি পাঁচটি নাম দেয়, তাহলে এই ১০ জন সদস্য বসে আলোচনা করতে পারে। কোনো পরামর্শ থাকলে এই কমিটির মাধ্যমে সেটি সরকারের কাছেও আসবে। সরকার তা কার্যকর করার উদ্যোগ নেবে। দেশের মানুষের স্বার্থে যেকোনো বিষয়ে, যে কারও সাথে আলোচনার পথ উন্মুক্ত থাকবে। এই প্রস্তাবের পর টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান উপস্থিত সংসদ সদস্যরা। তখন প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কমিটির সুপারিশ যাতে বাস্তবায়নের মুখ দেখতে পারে, সেজন্য জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে সভাপতি করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে ফ্লোর দেন এবং মতামত জানতে চান স্পিকার। বিরোধীদলীয় নেতা তার প্রস্তাবকে সংসদ নেতা ইতিবাচকভাবে নেওয়ায় ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা আশা করি এই সংসদ জাতীয় সকল সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হবে। শিগগিরই পাঁচজনের নাম দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

পরে স্পিকার বলেন, আশা করি, অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিরোধী দলের নেতা পাঁচজন সদস্যের নাম দেবেন। কারণ এই সংসদ (চলতি অধিবেশন) এই মাসেই শেষ হবে। আপনাদের এই বক্তব্যের ফলে জনগণের মনে অনেক আশা সঞ্চার হয়েছে। সরকার ও বিরোধী দল এভাবে যদি সহযোগিতার মাধ্যমে অগ্রসর হয়, তবে যেকোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে প্রধান করে গঠিত কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত সরকারি দলের পাঁচ সদস্যের অন্যরা হলেনÑ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সরকারদলীয় হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) ও সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম খান শান্ত ও মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। এই কমিটি বিরোধী দলের সদস্যদের নাম পাওয়ার পর কাজ শুরু করবে বলে জানানো হয়। পরে বিরোধী দলের সদস্যদের নাম দেওয়া হয়। বিরোধী দলের সদস্যরা হলেনÑ সাইফুল আলম খান (ঢাকা-১২), নুরুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩), আবদুল বাতেন (ঢাকা-১৬), মোহাম্মদ আবুল হাসনাত (কুমিল্লা-৪) ও মুফতি মাওলানা আবুল হাসান (সিলেট-৫)।

এর আগে বুধবার জাতীয় সংসদে ‘দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিরসনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ’ বিষয়ে একটি নোটিস এনেছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা। সেটা নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়। আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি ‘কমন (যৌথ) কমিটি’ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে জানিয়েছিলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলের প্রস্তাব বিবেচনায় নেবে সরকার। তাদের প্রস্তাবে বাস্তবতার নিরিখে কিছু থাকলে সেটা বাস্তবায়ন করা হবে। তারই ধারাবাহিকতায় সংসদ নেতা ৫ সদস্যের নাম ঘোষণা করেন এবং বিরোধী দলকে সমসংখ্যক সদস্য দিতে অনুরোধ জানান।

ঢাকায় লোডশেডিং

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, দেশের কৃষি খাতে সেচ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং শহর ও গ্রামের বৈষম্য দূর করতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গ্রামের কৃষক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং তারা যেন পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পায়, সেটি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে ফসল কাটার মৌসুম চলায় কৃষকদের সেচকাজের সুবিধার্থে প্রধানমন্ত্রী নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের বৈষম্যহীন বাংলাদেশের চেতনা সমুন্নত রাখতে রাজধানী ঢাকাতে প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের আস্থা কমে যাওয়ার কারণে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য এলে সেখানে বিশ্বাস অর্জন করতে দেশবাসীর কিছুটা সময় লাগবে। তবে বর্তমান সরকার তাদের শপথের মর্যাদা এবং পবিত্র সংসদের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। বর্তমানের এই বিদ্যুৎ সমস্যা এক দিনের নয়, বরং এটি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পুঞ্জীভূত অব্যবস্থাপনার ফল। বর্তমানে কাগজে-কলমে উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি থাকলেও বাস্তবতার সঙ্গে সেটির গরমিল রয়েছে। তিনি জানান, গতকাল দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট, যার বিপরীতে উৎপাদন সম্ভব হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৩৫ মেগাওয়াট। ফলে দেশজুড়ে ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে বাধ্য হয়েছে সরকার।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, দেশে প্রতিদিন ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে নিজস্ব উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ করা যাচ্ছে ২ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন এক হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থাকছে। পর্যাপ্ত অর্থ থাকলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বা ইনফ্রাস্ট্রাকচার না থাকায় দ্রুত গ্যাস আমদানি বাড়ানো যাচ্ছে না। তবে সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার তালিকায় এই অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ দৃশ্যমান হবে। তিনি জানান, একটি আমদানিকৃত পাওয়ার প্লান্ট এবং একটি কয়লাভিত্তিক পাওয়ার প্লান্ট রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বর্তমানে বন্ধ থাকায় সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। এগুলো পূর্ণ উৎপাদনে ফিরলে আগামী সাত দিনের মধ্যে লোডশেডিং পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। জনগণের এই সাময়িক কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা