× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দাম বাড়ালেও কাটেনি এলপি গ্যাস সংকট

সৌরভ হোসেন

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০৪ এএম

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:১১ এএম

দাম বাড়ালেও কাটেনি এলপি গ্যাস সংকট

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির পরও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সরবরাহ ঘাটতির কারণে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ভোক্তারা। ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ক্রমেই বাড়ছে। ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে সরবরাহের অস্থিরতা এবং অনিয়মকেই এ পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলতি এপ্রিল মাসে দুবার এলপি গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে বছরের প্রথম চার মাসেই ৬৩৪ টাকা বেড়ে গেছে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম। জানুয়ারি মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৫৬ টাকায়। এপ্রিলের শুরুতে একলাফে দাম চলে যায় ১ হাজার ৭২৮ টাকায়। দুই সপ্তাহ পর আরও ২০০ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৯৪০ টাকা।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সরকার-নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, পাইকারি পর্যায়েই চাহিদামতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। তবে অনেক ভোক্তার অভিযোগ, বেশি মুনাফার আশায় একটি চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে।

গত মঙ্গলবার হঠাৎ মোহাম্মদ ফারুকের বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস শেষ হয়ে যায়। উপায় না দেখে তিনি গ্যাস কিনতে দোকানে বের হন। কয়েকটি দোকান ঘুরে শেষ পর্যন্ত তাকে ২ হাজার ২০০ টাকায় এক সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে হয়। অথচ ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকার-নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা। প্রয়োজনের তাগিদে অতিরিক্ত ২৬০ টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনে বাড়ি ফিরতে হয় তাকে।

ফারুকের অভিযোগের বাস্তবতা যাচাই করতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি বড় এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ সরকার-নির্ধারিত দামের চেয়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করছে বিক্রেতারা।

নতুনবাজার এলাকার দক্ষিণ নয়ানগরের একটি দোকানে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের অবস্থার কথা তুলে ধরেন বিক্রেতা মো. নাহিদুল ইসলাম সামী। তিনি দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমরা ইচ্ছা করে বাড়তি দামে বিক্রি করছি না। পরিবেশকের কাছ থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। নইলে সরকারি দামে বিক্রি করতে আমাদের আপত্তি কোথায়?

মাদনী গ্যাস এন্টারপ্রাইজের এই স্বত্বাধিকারী জানান, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এলপিজি সিলিন্ডার ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওমেরা ২ হাজার ২০০ টাকা, বেক্সিমকো ২ হাজার ১৫০ টাকা, ইউনিগ্যাস ২ হাজার ১০০ টাকা এবং বিএম ২ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।

এদিকে শহরের পলিটেকনিক্যাল এলাকার পুরোনো প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোহাম্মদীয়া ট্রেডিংয়ে প্রতিদিন দুই-তিন শতাধিক সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি হয়। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার মুহাম্মদ আলী আজম বলেন, পরিবেশক পর্যায়েই এখন দাম ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকায় পৌঁছে গেছে। তার ওপর জাহাজভাড়া ও আমদানি খরচ বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ফলে সরকার-নির্ধারিত দামে বিক্রি করা বাস্তবে সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি তার।

পরিবেশক পর্যায় থেকেও একই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, কোম্পানি থেকেই বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তারাই অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছে।

এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির তথ্যমতে, দেশে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন এলপিজি বিক্রি হয়ে থাকে। দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই পূরণ করে বেসরকারি কোম্পানিগুলো। বর্তমানে ২৭টি কোম্পানি প্রায় সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডার বাজারজাত করছে, যা মূলত রিফিল (পুনরায় গ্যাস ভরা) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়।

এলপিজি ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ওঠানামা করলেও বিইআরসি জাহাজভাড়া ও প্রিমিয়াম যথাযথভাবে সমন্বয় করত না। এবারের মূল্য নির্ধারণে এসব বিষয় অনেকটা সমন্বয় করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। ফলে বিইআরসি মূলত ব্যবসায়ীদের দাবিই পূরণ করেছে; ভোক্তাদের স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) ভাইস প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন রশিদ বলেন, স্পট মার্কেট থেকে এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে প্রিমিয়ামের হার সব সময় একরকম থাকে না। বর্তমানে জ্বালানিপণ্যের দাম ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির (জিওপলিটিকস) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। বিইআরসি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে দেখা যেতে পারে। বর্তমানে আমদানি জাহাজের ইনস্যুরেন্স খরচ তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এই চ্যালেঞ্জের কারণেই বিইআরসি মূল্য সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের যুগ্ম সচিব নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, এলপিজির মূল্য নির্ধারণ একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসেই কমিশন এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। ফলে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যেভাবে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হবে (বৃদ্ধি বা হ্রাস), তার ভিত্তিতেই পরবর্তী মূল্য নির্ধারণ করা হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা