বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০১ পিএম
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সফরে নতুন প্রোটোকল নির্ধারণ করে নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রীয় বা সরকারি কাজে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের বিদেশযাত্রা, দেশে প্রত্যাবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ সফরের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচার (প্রোটোকল) নতুন করে নির্ধারণ করেছে সরকার। বিদায় ও অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানকে সংক্ষিপ্ত ও প্রয়োজনভিত্তিক রাখতে নির্দেশনায় বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি সীমিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত ১৬ এপ্রিল এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সফরের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে, অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও জনভোগান্তি কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
বিমানবন্দরে অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিবের উপস্থিতিই যথেষ্ট
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীদের বিদেশযাত্রা ও দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিব উপস্থিত থাকবেন। আগে যেখানে অনেক ক্ষেত্রে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বড় উপস্থিতি দেখা যেত, এখন তা নির্দিষ্ট পর্যায়ে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে সফরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর একান্ত সচিব তার ইচ্ছানুযায়ী ঢাকায় বিদায় ও প্রত্যাবর্তনের সময় উপস্থিত থাকবেন। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে অযথা চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্ব বণ্টনে স্পষ্টতা
জেলা পর্যায়ে সফরের সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের স্থানীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মন্ত্রীকে অভ্যর্থনা ও বিদায় জানাবেন। তবে এজন্য ডিসি বা এসপিকে নিজের নির্ধারিত সফরসূচি পরিবর্তন করতে হবে না। প্রয়োজনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এই দায়িত্ব পালন করবেন।
উপজেলা পর্যায়ে আরও সরলীকরণ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের সেখানে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই।
বড় শহরের বিমানবন্দর ও স্টেশনে বাধ্যতামূলক নয় উপস্থিতি
ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও যশোরসহ বড় শহরের বিমানবন্দর বা রেলস্টেশনে মন্ত্রীদের আগমন বা প্রস্থানের সময় জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয় বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই নিয়ম প্রযোজ্য মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারদের ক্ষেত্রেও। তবে কোনো সফরে ট্রানজিট হিসেবে অন্য জেলার বিমানবন্দর বা রেলস্টেশন ব্যবহার করা হলে সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশাসনের একজন উপযুক্ত প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত থাকবেন।
নিরাপত্তা জোরদার ও রেলপথে বিশেষ নির্দেশনা
মন্ত্রীদের সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বলা হয়েছে নির্দেশনায়। রেলপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে রেলওয়ে পুলিশকে সংশ্লিষ্ট সব স্টেশন ও ফাঁড়িকে আগাম অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেসব স্টেশনে মন্ত্রীরা উঠবেন বা নামবেন, সেখানে পুলিশের একজন পরিদর্শক বা উপ-পরিদর্শক উপস্থিত থাকবেন। চট্টগ্রামগামী ট্রেনযাত্রার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের সুপারের উপস্থিতিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
সরকারি বনাম ব্যক্তিগত সফরে আলাদা বিধান
নির্দেশনায় সফরের ধরন স্পষ্ট করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারি সফরের ক্ষেত্রে যানবাহন ও আবাসনের ব্যবস্থা সরকার করবে। তবে ব্যক্তিগত সফরের ক্ষেত্রে একই সুবিধা নিলে তার ব্যয় প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া সার্কিট হাউস বা সরকারি রেস্ট হাউসের বাইরে অবস্থান করলেও প্রোটোকলের নিয়ম প্রযোজ্য থাকবে এবং নিরাপত্তার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনকে নিতে হবে।
আগের নির্দেশনা বাতিল, নতুন নিয়ম কার্যকর
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট জারি করা পূর্বের নির্দেশনাটি বাতিল করে নতুন এই নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সময়োপযোগী হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের স্পষ্ট নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব বণ্টন সহজ করবে এবং প্রোটোকল ব্যবস্থাপনায় অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা কমাবে, যা সামগ্রিকভাবে সরকারি কাজে দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হবে।