× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিআইডব্লিউটিএ

এখনও সিন্ডিকেটের দাপট!

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১১:২৪ এএম

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের লোগো। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের লোগো। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ব্রিজ ক্লিয়ারেন্স (এনওসি) প্রদান প্রক্রিয়া ঘিরে অনিয়ম, হয়রানি ও আর্থিক লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সরকারি এই সেবা প্রক্রিয়াকে আগের মতোই নিয়ন্ত্রণ করছে। এর নেপথ্যে রয়েছেন সংস্থাটির নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আব্দুস ছালাম এবং একই বিভাগের মো. মাহে আলম। কিছুদিন আগে এসব অভিযোগ তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব ও উচ্চপর্যায়ের যোগসাজশের কারণে সংশ্লিষ্টরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়েছেন।

ব্রিজ ক্লিয়ারেন্সে ‘ডিজিটাল হয়রানি’ : সূত্র জানাচ্ছে, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা যেমনÑ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, রেলওয়ে বা বিদ্যুৎ উন্নয়ন সংস্থা যখন নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য বিআইডব্লিউটিএর কাছে অনাপত্তিপত্র চায়, তখন আবেদন প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিক বিলম্ব করা হয়। নির্দিষ্ট আর্থিক সুবিধা না দিলে আবেদন ‘রিভিউ’ বা ‘পেন্ডিং’ দেখিয়ে আটকে রাখা হয়। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটে এবং সরকারি ব্যয় বাড়ে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রকৌশলী বলেন, ‘ব্রিজ ক্লিয়ারেন্স অত্যন্ত কারিগরি বিষয়। এখানে স্বচ্ছতা না থাকলে পুরো নৌপথ ব্যবস্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।’

এ বিষয়ে নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আব্দুস ছালাম জানান, তার বিরুদ্ধে একটি মহল মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে হেয় করছে। যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সত্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নদীর শ্রেণিবিন্যাসে কারসাজির অভিযোগ : অভিযোগে রয়েছে, ঘুষের বিনিময়ে প্রায়ই নদীর শ্রেণিবিন্যাস ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করে সেতুর উচ্চতা কমিয়ে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। এতে ভবিষ্যতে বড় নৌযান চলাচলে বাধা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর শ্রেণিবিন্যাসে ভুল হলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের নৌপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীর নেভিগেশনাল ক্লিয়ারেন্স কমিয়ে দেওয়া হলে তা শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের অর্থনীতির ওপরও চাপ সৃষ্টি করবে।

অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিদর্শনের নামে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ভ্রমণ ব্যয়, থাকা-খাওয়ার সুবিধা আদায় করেন। এরপর আবার একই সফরের জন্য সরকারি তহবিল থেকে টিএ/ডিএ বিল উত্তোলন করা হয়। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা সরাসরি সরকারি অর্থ আত্মসাতের শামিল বলে মনে করেন প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা।

সাবেক এক হিসাব কর্মকর্তা বলেন, একই সফরে দুই উৎস থেকে সুবিধা নেওয়া হলে তা স্পষ্ট আর্থিক অনিয়ম। হিসাব বিভাগে যাচাই করলে এর প্রমাণ পাওয়া সম্ভব।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের ইঙ্গিত : জানা যায়, দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরে গিয়ে সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য মাহে আলম অতিরিক্ত পরিচালকের হয়ে বিভিন্ন ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। কার্যাদেশ বাস্তবায়নের আগে-পরে আর্থিক সুবিধা দাবি করেন।

এ প্রসঙ্গে সাবেক আমলা ড. আব্দুস সবুর বলেন, ‘যদি কোনো টাইপিস্ট বা নিম্নপদস্থ কর্মচারী টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটাতে পারে, তাহলে বুঝতে হবে পুরো ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের গলদ আছে।’

আয়বহির্ভূত সম্পদ ও জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন : অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয় ও জীবনযাত্রার মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। ঢাকায় তাদের একাধিক ফ্ল্যাট, জমি ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের বিষয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যদি কারও জীবনযাত্রা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে তা অনুসন্ধানের যৌক্তিক ভিত্তি তৈরি করে।’ 

বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনে জবাবদিহির অভাব থাকলে এ ধরনের অভিযোগ বারবার সামনে আসে। তবে প্রতিটি অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।

কারিগরি সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন : ব্রিজ ক্লিয়ারেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি বিষয়ে অদক্ষতা ও অস্বাভাবিক নির্ভরতার অভিযোগও এসেছে। এতে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্তে অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের সম্পৃক্ততা জরুরি। না হলে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি দেখা দেয়। এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে তিনটি পদক্ষেপ জরুরি। এগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন; ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দোষী প্রমাণিত হলে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিআইডব্লিউটিএ দেশের নৌপরিবহন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। তাই এ ধরনের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ও জনআস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এটি শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, বরং নৌপথ ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সময়োপযোগী তদন্তই পারে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে এবং জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা