× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পোল্ট্রিখাতে সরাসরি জড়িত ৮০-৮৫ লাখ মানুষ: মতবিনিময় সভায় বক্তারা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ২২:২৩ পিএম

ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দেশের পোল্ট্রিখাত অনেক সম্ভাবনাময় খাত। সরকারের নীতি সহায়তা ও পৃষ্টপোষকতা পেলে এটি রপ্তানিখাতে উন্নীত হতে পারে। তা ছাড়া বর্তমানে যেভাবে দেশে পোল্ট্রির চাহিদা বাড়ছে তাতে করে ২০৩০ সালে রপ্তানিমুখি পণ্যে পরিণত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। 

ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রবিবার দুপুরে প্রাণিসম্পদ খাত নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি সেন্ট্রাল কাউন্সিলের সভাপতি মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: শাহজামান খান এবং ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ শাখার সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ।

এতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ফিড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি আনোয়ারুল হক।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, “বর্তমানে পোল্ট্রিখাতে বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ মাত্র দশমিক শূন্য তিন শতাংশ। সরকারি নীতি-সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ পোল্ট্রি পণ্য রপ্তানি করতে পারবে।”

শামসুল আরেফিন খালেদ বলেন, “পোল্ট্রি খাতে ১ কোটি মানুষ কোন না কোনভাবে জড়িত। সরাসরি কর্মসংস্থান রয়েছে ৮০-৮৫ লাখ মানুষের। ২০০৫ সালে এনিমেল পুষ্টিতে পোল্ট্রির অবদান ছিল ১০ শতাংশ, বর্তমানে তা ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।”

তিনি বলেন, “পোল্ট্রি সেক্টর ডিম ও মাংস দ্বারা পুষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান ও আগামীতে বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে। নারীদের ৭০ ও পুরুষদের ৮৫ গ্রাম প্রোটিন দরকার হয়। সেখানে আমরা ৭৬ গ্রাম প্রোটিন খাই। ভাতের পর সবচেয়ে বেশি প্রোটিন পাওয়া যায় পোল্ট্রিতে।” 

তিনি বলেন, “ছোট খামারিদের বড় করতে হবে। ছোট-বড় খামারি উভয়ের মধ্যে সমন্বিত উন্নয়ন হতে হবে। বর্তমানে খামারি ও রিটেইলারের মধ্যে দামের পার্থক্য ৫০ টাকা। এটি করে মাত্র ১৮ জন লোক। এ সিন্ডকেট ভাঙতে হবে। বর্তমানে ডিম উৎপাদনে ফিডে ৫৬ শতাংশ ব্যয় হয়।”

তিনি বলেন, “পোল্ট্রিখাতে বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ মাত্র দশমিক শূন্য তিন শতাংশ। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ পোল্ট্রি পণ্য রপ্তানি করবে।” 

আনোয়ারুল হক বলেন, “খামারিরা প্রতিটি ডিম উৎপাদন করতে গিয়ে ৫টাকা লোকসান দিচ্ছে। তিনি বলেন, সোনালী মুরগির আরএমডি ১৫ বছরে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আমি বাণিজ্যিক উৎপাদক। আমার ১০ লাখ মুরগি থেকে এখন ১০ হাজারে নেমে এসেছে।

“ফিডের দাম দুই টাকা বাড়ানো হয়েছে। অথচ যুদ্ধের কারণে সব ধরনের কাঁচামালের দাম বেড়েছে। ৫৫ টাকার সয়াবিন মিল বেড়ে ৬২ টাকা হয়েছে। ৬৫ টাকার কমে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই ফিডের দাম কমাতে হলে কাঁচামালের দাম ও ভ্যাট-ট্যক্স কমাতে হবে “

মসিউর রহমান বলেন, “গত বছর ভারত থেকে কিছু ডিম এনে আমাদের ধমক দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভারতে আমাদের চেয়ে প্রতি ডিমে সাড়ে তিন টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তাই আমদানি নয় বরং নীতি সহায়তা দিয়ে আমাদের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে।”

মো. শাহজামান খান বলেন, “রপ্তানিমুখী প্রাণিখাতে পরিণত করতে আমরা কাজ করছি। দেশের ৯০ শতাংশ প্রান্তিক খামারি, তারা দাদনের শিকার। এতে প্রান্তিক খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও মাঝারি পর্যায়ের লোকেরা লাভ হচ্ছে। আমরা এখানে হাত দেব। আর আমরা ১২-১৫ শতাংশ ভ্যাক্সিন উৎপাদন করতে পারি। এটির উন্নয়ন বাড়ানো হবে।” 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “সরকারের দায়িত্ব সাপোর্ট দেওয়া। আমরা শতভাগ সাপোর্ট দেব। আপনারা ছোট একটি টিম করবেন। যাতে প্রয়োজনে অর্থসহ সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আপনাদের নিয়ে কাজ করা হবে।”

তিনি বলেন, “মধ্যসত্ব গ্রুপটির দৌরাত্ম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে আসবো। আর এ খাতের সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আপনারা  ড্রাফট করবেন, সেটি আমরা তৈরি করলে হয়ত আপনাদের পারপাস কম থাকবে। তাই আপনারা প্রস্তুত করে দিলেই ভালো হয়।”

পোল্ট্রিখাতে সংশ্লিষ্টদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন-সবার আগে বাংলাদেশ। তাই দেশের স্বার্থে আমাদের সকালের মিলেমিশে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে কোন অসততায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। 

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “দেশকে এগিয়ে নিতে একযোগে কাজ করতে হবে। পোল্ট্রিখাতে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবো। এখাতকে ২০৩০ সালের মধ্যে রপ্তানির জায়গায় যাওয়া হবে। তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের আওতায় খামারিরা চলে আসবে, এতে করে কৃষিখাত যেসব সুযোগ সুবিধা পাবে পোল্ট্রিখাতও সেগুলো পাবে।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ক্ষুদ্রখামারিদেরও বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কেননা তারা না বাঁচলে বড়রাও থাকবে না। বর্তমানে প্রতিটি ডিমের উৎপাদন খরচ ৯ টাকা, সেটি ২ টাকা লোকসানে ৭টাকা বিক্রি করছে খামারিরা। তারা কতদিন লোকসানে বিক্রি করবে? তাই উৎপাদন খরচ কমাতর সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।”

তিনি বলেন, “সরকার ও কিছু প্রতিষ্ঠান ভ্যাক্সিন আমদানি করে থাকে। ভ্যাক্সিন আমদানিকারকদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “খামারি, ফিড, বাচ্চা উৎপাদন থেকে বাজারজাত পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সকলের ক্ষেত্রে উইং উইং অবস্থা থাকতে হবে। ভোক্তার উপর অতিরিক্ত চাপ যাতে না পড়ে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।” 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা