× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পুনরায় জনসংযোগ কর্মকর্তা হলেন বিল্লাল বিন কাশেম

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৪৬ পিএম

বিল্লাল বিন কাশেম সোহেল। ফাইল ছবি

বিল্লাল বিন কাশেম সোহেল। ফাইল ছবি

কবি, লেখক ও সাংবাদিক বিল্লাল বিন কাশেম সোহেল আবারও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। 

তার এই প্রত্যাবর্তন প্রশাসনিক ও সাহিত্যাঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, বহুমাত্রিক প্রতিভা এবং সমাজসচেতন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তার পুনরায় যোগদানকে সংশ্লিষ্ট মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছে। 

অনেকের মতে, একজন সৃজনশীল সাহিত্যিক ও দক্ষ গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে তার উপস্থিতি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে নতুন গতি ও প্রাণসঞ্চার করবে।বিল্লাল বিন কাশেম বাংলা সাহিত্যের এক সুপরিচিত নাম। কবিতা, প্রবন্ধ ও উপন্যাস- সব ধারাতেই তিনি স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর তৈরি করেছেন। 

তার লেখায় সমাজবাস্তবতা, মানুষের আবেগ, প্রেম-বিরহ, দেশপ্রেম এবং সময়ের সংকট গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়।তার আলোচিত কাব্যগ্রন্থ “অনুরণন” পাঠকমহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। এতে জীবনের সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলো কাব্যিক ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে, যা পাঠককে যেমন চিন্তায় নিমগ্ন করে, তেমনি আবেগেও নাড়া দেয়।

অন্যদিকে তার উপন্যাস “দূরে কোথায়” সমকালীন সমাজের বহুমাত্রিক বাস্তবতা, সম্পর্কের জটিলতা এবং সংগ্রামী জীবনের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে পাঠকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। 

উপন্যাসটির বাস্তবধর্মিতা ও গভীরতা পাঠকমহলে প্রশংসিত হয়েছে ২০০২ সালে সাংবাদিকতা ও লেখালেখির মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন বিল্লাল বিন কাশেম। এরপর দীর্ঘদিন তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় দায়িত্ব পালন করেন।

তার সাংবাদিকতা ছিল অনুসন্ধানী, সাহসী ও সত্যনিষ্ঠ।দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইস্যুতে তার প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণ পাঠকমহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি কেবল সংবাদ পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরে জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

২০১২ সাল থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।এই প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা তার দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও পরিপক্ব করেছে, যা তার লেখালেখিতেও প্রতিফলিত হয়েছে।


জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে তার দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা, ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচি প্রচার এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ রক্ষা করা। এর পাশাপাশি তিনি আইসিটি বিভাগের উপপরিচালক, প্রকাশনা বিভাগের উপপরিচালক এবং নড়াইল ও যশোর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। 

তার পুনরায় যোগদানের ফলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্যপ্রবাহ, জনসম্পৃক্ততা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।বিল্লাল বিন কাশেমের সাহিত্যকর্মে সমকালীন সমাজ, রাজনীতি ও সংস্কৃতির প্রতিফলন সুস্পষ্ট। তার প্রবন্ধ ও গবেষণামূলক লেখায় সমাজের অসঙ্গতি, পরিবর্তন ও সম্ভাবনার দিকগুলো বিশ্লেষণধর্মীভাবে উঠে এসেছে। 

তিনি বিশ্বাস করেন, সাহিত্য শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি সমাজ পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।ব্যক্তিজীবনে তিনি একটি সুপরিচিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি মেজ। তার বড় ভাই মোহাম্মদ বিন কাশেম জুয়েল ঢাকার একজন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার।

ছোট ভাই ইলিয়াস বিন কাশেম রাসেল একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের নিউজ ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের হেড অব প্রোডাকশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া তার ছোট বোন ফারহানা আফরোজ একটি বেসরকারি ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা।ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক কন্যা সন্তানের জনক। তার কন্যার নাম ফারিহা জাহিন। তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল কাশেম বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। ১৯৯০ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন। 

তার মাতা মিসেস গুলশান আরা বেগম লিলি একজন স্নেহশীলা গৃহিণী ও রত্নগর্ভা মা।সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মতে, তার অভিজ্ঞতা, সততা ও সৃজনশীলতা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা এবং জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে তারা আশা করছেনঅন্যদিকে সাহিত্যাঙ্গনেও তার সক্রিয় উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে। 

নতুন কাব্যগ্রন্থ, প্রবন্ধ ও গবেষণামূলক কাজ নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে পরিকল্পনা করছেন বলে জানা গেছে কবি, লেখক, সাংবাদিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা- এই চারটি পরিচয়ের সমন্বয়ে বিল্লাল বিন কাশেম এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনে তার পুনরায় যোগদান শুধু একটি প্রশাসনিক ঘটনা নয়; এটি সাহিত্য, গণমাধ্যম ও সমাজসেবার এক গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।তার এই নতুন পথচলা কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলে দেবে। 

তবে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়- তার কলম যেমন থামেনি, তেমনি সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতাও অবিচল রয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা