প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ২১:২৩ পিএম
শিক্ষার্থীদের হাতে চেক তুলে দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দেশ ও জাতির সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য প্রথমেই শিক্ষাখাতে মনোযোগ দেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, শিক্ষা হলো অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাত্রা। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির উন্নতি অসম্ভব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স হলে শনিবার অ্যাসোসিয়েশন ফর ম্যাস অ্যাডভান্সমেন্ট নেটওয়ার্ক -আমান আয়োজিত ছাত্রবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন।
বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, শিক্ষায় সফলতার জন্য যার যার জায়গা থেকে নিজের দায়িত্বটুকু সম্পর্কে যত্নবান হতে হবে। নিজ নিজ দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করলে শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য সাফল্য অর্জন সম্ভব।
আমানের নির্বাহী পরিচালক ড. মুহাম্মদ আবু ইউসুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কারিগরি ও শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়া, ইকো ইউএসএর প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ জামান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মানারাত ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান প্রমুখ।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, “শিক্ষার উন্নয়নে আমি একটি কথা বলি, যার যার দায়িত্ব আমরা ঠিকঠাক পালন করলে শিক্ষাক্ষেত্রে আমরা অসামান্য সাফল্য অর্জন করতে পারি। এখানে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব হলো নিয়মিত পড়ালেখা করা। পাঠে মনোযোগী হওয়া। হোমওয়ার্ক নিয়মিত করা। শিক্ষকদের দায়িত্ব হলো নিয়মিত পাঠদান করা। সততার শিক্ষা দেয়া। আর পরিবারের দায়িত্ব সন্তানকে শিক্ষালয়ে পাঠানো। হোমওয়ার্ক করছে কি না দেখা। সন্তান কার সাথে মিশছে নজর রাখা”।
অভিভাবকদের দায়িত্ব বেশি হলেও অনেক অভিভাবক সন্তানকে স্কুল-কলেজে পাঠিয়ে মনে করেন দায়িত্ব শেষ—এটা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কাদের গনি চৌধুরী সন্তানকে সুশিক্ষিত ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলায় পরিবারের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তার বক্তব্যে আরও বলেন “পরিবার হলো একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে পরিবারের সদস্যরা প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা ও মায়া-মমতার বন্ধনে আবদ্ধ থাকে। পরিবারকে বলা হয় ‘জ্ঞানচর্চার সূতিকাগার।
“পরিবার হলো ‘শাশ্বত বিদ্যালয়’, ‘চিরন্তন মাতৃসদন’। মানুষ তার সামগ্রিক জীবনে যত জ্ঞান, শিক্ষা, ঐশ্বর্য অর্জন করে তার সূচনাই হয় পরিবার থেকে। মায়ের কোলে হয় শিশুশিক্ষার হাতেখড়ি। তাই সন্তানের মূল্যবোধ, চরিত্র, চেতনা ও বিশ্বাস জন্ম নেয় পরিবার থেকেই”।
তিনি আরও বলেন, “অ্যাকাডেমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা লাভ করে শিক্ষিত হওয়া যায়, কিন্তু পরিবার থেকে সুশিক্ষা না পেলে জ্ঞানের পূর্ণতা আসে না। তখন অর্জিত সব জ্ঞান-গরিমাই ম্লান হয়ে যায়। কেননা সভ্যতা, ভদ্রতা, নৈতিকতা, কৃতজ্ঞতা বোধ, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা-স্নেহ, পরোপকার, উদার মানসিকতা—এগুলো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে খুব বেশি অর্জন করা যায় না। এগুলোর ভিত্তি প্রোথিত হয় পারিবারিক মূল্যবোধ লালনপালন ও সুশিক্ষার মাধ্যমে”। বলেন এই সাংবাদিক নেতা।
সন্তানের এই বেড়ে ওঠার পথে অভিভাবকের কর্তব্য ও করণীয় সম্পর্কে বিএফইউজের মহাসচিব আরও বলেন, “একটা ধারণা প্রচলিত আছে, পরিবার আদর্শ হলে সেই পরিবারের সন্তানও আদর্শ হয়ে গড়ে ওঠে। বস্তুত একটি শিশু যখন হাত-পা নাড়তে শেখে, তখন থেকেই সে পরিবারের কাছ থেকে শিখতে শুরু করে। তাই বাড়ন্ত শিশুকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ভালো-মন্দ বিষয়ে অবহিত করতে হয়। তার সঙ্গে নরম সুরে, মার্জিত আচরণে বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করতে হয়।
“শিশুদের মন-মানসিকতা থাকে খুবই কোমল, তাই খুব সহজেই যেকোনো বিষয় তারা শিখে নিতে পারে। বড়দের কর্তব্য, সন্তানের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করা, তাহলে সে সবকিছুই বাবা-মার সঙ্গে শেয়ার করবে। যে সন্তান শেয়ার করতে শিখবে সে কখনো আদর্শহীন হবে না”।
একই সঙ্গে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার জায়গাটিও তুলে ধরেন কাদের গনি চৌধুরী, “ঘরের পরিবেশ ভালো বলেই যে সন্তান সভ্য-ভদ্র ও আদর্শবান হবে—এমন ভেবে নিশ্চিন্ত বসে থাকা ঠিক নয়। তাই সন্তান বাইরে কাদের সঙ্গে মেশে, বন্ধুত্ব করে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে”।
শিক্ষা খাতের প্রতি সরকারের উদাসীনতার সমালোচনা করে বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, “শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কিন্তু বাজেটের ১২ শতাংশের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না শিক্ষা খাতের বরাদ্দ। অন্যদিকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) দিক থেকেও শিক্ষা খাতের বরাদ্দ ২ শতাংশের ঘরে আটকে আছে।
“জিডিপির হিসাবে এ অঞ্চলের দেশ ভুটান, নেপাল, আফগানিস্তান, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের চেয়ে বাংলাদেশে শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ কম। ইউনসেকোর চাওয়া ছিল জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ এবং জিডিপির হিসাবে ৪ থেকে ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া। কিন্তু এর ধারেকাছেও যাওয়া যায়নি”।