প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ০০:৩২ এএম
আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ০০:৪৫ এএম
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ছবি: রণধীর জয়সওয়াল এক্স
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত।
দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে শুক্রবার মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।
ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নয়াদিল্লি সফরে এসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানোর কথা উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার কথা উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চান।
জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে আলোচনা চালিয়ে যাব।’
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সব ঘটনা খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ নিয়ে আর কথা না বলে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে ভারতের আগ্রহের কথা উল্লেখ করেন জয়সওয়াল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফরে দেশটির নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত হওয়ার এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে ভারতের ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। প্রাসঙ্গিক দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর (মেকানিজম) মাধ্যমে অংশীদারত্ব আরও গভীর করার প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। খুব শিগগির পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তা ছাড়া উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে মতবিনিময় করেছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বেশ কয়েকটি প্রতিবেশী দেশ জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। ভারত নিজেদের প্রয়োজনীয়তা ও মজুতের পরিমাণ বিবেচনায় রেখে প্রতিবেশী দেশগুলোকে জ্বালানি সরবরাহ করছে।
গত মার্চ মাসে ভারত বাংলাদেশে ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করেছে এবং চলতি মাসেও এই সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।