প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ২০:১৩ পিএম
মাহবুবুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মাহবুবুর রহমান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন কন্যা রেখে গেছেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পাঁচ সদস্যের একটি সরকারি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল নিয়ে ক্যামেরুন সফরে যান মাহবুবুর রহমান। দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। গত ৯ এপ্রিল জ্বর থাকা সত্ত্বেও তিনি সচিবালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। পরদিন জ্বর বাড়লে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ভর্তি হওয়ার রাতেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে, এবং তাকে এইচডিইউতে নেওয়া হয়। দুই দিন পর্যবেক্ষণে রাখার পর অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
বৃহস্পতিবার অবস্থার অবনতি চরমে পৌঁছালে তাকে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়, এবং আজ ভোরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মাহবুবুর রহমান বিসিএস ১৩তম ব্যাচের (কাস্টমস) কর্মকর্তা ছিলেন। ১৯৯৪ সালে সহকারী কমিশনার হিসেবে কাস্টমস ক্যাডারে যোগ দেন। দীর্ঘ ১৬ বছর তিনি কাস্টমস হাউস, কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেট এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১১ সালে কাস্টমস ক্যাডার ছেড়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে অতিরিক্ত সচিব পদে উন্নীত হয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে কাজ করেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
১৯৬৮ সালে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন মাহবুবুর রহমান। তার বাবা আজিজুল হক ছিলেন মঠবাড়িয়া কলেজের অধ্যাপক। তিনি মঠবাড়িয়া কে এম লতিফ ইনস্টিটিউশন থেকে এসএসসি এবং ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ এবং চীনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স ইউনিভার্সিটি থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে দ্বিতীয় মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
সহকর্মীরা জানান, তিনি ছিলেন দক্ষ, সৎ ও মেধাবী প্রশাসক। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য চুক্তি আলোচনাতেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তার মৃত্যুতে প্রশাসন ও বাণিজ্য অঙ্গনে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। সহকর্মীদের মতে, দেশের বাণিজ্য নীতিনির্ধারণে এক গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হারাল বাংলাদেশ। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এমপি।