সংসদ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৪৩ পিএম
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সার ও কীটনাশক সরবরাহে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বাধা সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে রাজনৈতিক দলেরই হোক না কেন, কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বুধবার প্রশ্নোত্তর পর্বে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীরের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, সার ও কীটনাশকসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ সরবরাহে বাধা প্রদানকারী ডিলারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।
জবাবে কৃষিমন্ত্রী জানান, ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৫’-এর আওতায় নতুন ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, বিএডিসি ও বিসিআইসি ডিলারদের সমন্বয়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
মন্ত্রী কড়া ভাষায় বলেন, যারা অনিয়ম করবে বা সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কৃষক পর্যায়ে সার ও কীটনাশকের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
পেঁয়াজ পচন রোধে উদ্যোগ
সংসদের একই অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী পেঁয়াজ সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, কৃষকদের সহায়তায় পাংসা উপজেলায় ৫০৫টি, কালুখালি উপজেলায় ২৬০টি এবং বালিয়াকান্দি উপজেলায় ৪৯৫টি এয়ার-ফ্লো মেশিন সরবরাহ ও স্থাপন করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মাধ্যমে বায়ু প্রবাহ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ আধুনিকায়নের একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ীসহ পেঁয়াজ ও রসুন উৎপাদনশীল এলাকায় মোট ৮ হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুমোদিত হলে রাজবাড়ীর পাংসা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালি উপজেলায় ৮০০ থেকে এক হাজার মেশিন স্থাপন করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ সঠিক সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়।এ সমস্যা সমাধানে আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কৃষিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত এ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা গেলে পেঁয়াজের অপচয় কমবে এবং দেশ পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে।