প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৪২ পিএম
আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৫৫ পিএম
প্রতীকী ছবি/আনাদোলু
আন্দামান সাগরে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিকদের বহনকারী একটি নৌকাডুবির ঘটনায় শিশুসহ আনুমানিক ২৫০ জন নিখোঁজ হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
এক বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার সংস্থা দুটি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ট্রলারটি বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। প্রতিকূল আবহাওয়া, তীব্র বাতাস এবং উত্তাল সমুদ্রের কারণে মাঝপথে এটি ডুবে যায়।
বিজ্ঞপ্তিতে হয়, ঘটনাটি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি এবং কোনো টেকসই সমাধান না থাকার করুণ বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতার কারণে অদূর ভবিষ্যতে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে। একইসঙ্গে মানবিক সহায়তার পরিমাণ কমে যাওয়া, শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে মানবেতর জীবনযাপন এবং শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ শরণার্থীদের নিরাপত্তার খোঁজে এবং উন্নত জীবনের আশায় এই বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা বেছে নিতে বাধ্য করছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা উল্লেখ করা হয়, উন্নত মজুরি এবং উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে পাচারকারী চক্রগুলো রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের ভুল তথ্য দিয়ে এই চরম ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পাচারকারীরা মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাদের জীবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে আন্দামান সাগর এই বিপজ্জনক পথে পাড়ি দেওয়া মানুষদের জন্য একটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
ইউএনএইচসিআর এবং আইওএম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জীবন রক্ষাকারী সহায়তায় অর্থায়ন বৃদ্ধি ও সংহতি প্রকাশের জরুরি আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশে যখন নতুন বছর উদযাপিত হচ্ছে, তখন এই ট্র্যাজেডি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো সমাধান করা কতটা জরুরি। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সংস্থা দুটি সতর্ক করে জানিয়েছে যে, দ্রুত যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে এই প্রাণঘাতী রুটে আরও অনেক মানুষের জীবন বিপন্ন হবে।