প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:০৮ পিএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। ছবি: বাসস
অধ্যাদেশ অনুযায়ী গণভোট হয়েছে এবং সেই গণভোটের বৈধতাও রয়েছে। এ জন্য নতুন করে ওই অধ্যাদেশকে আইন করার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে রবিবার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩ টি অধ্যাদেশ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, “গণভোট অধ্যাদেশ অনুযায়ী গণভোট হয়েছে এবং সেই গণভোটের বৈধতাও রয়েছে। এ জন্য নতুন করে ওই অধ্যাদেশকে আইন করার প্রয়োজন নেই। কারণ ওই আইনের আলোকে তো গণভোট হবে না। যদি গণভোট করতে হয় তখন সাংবিধানিকভাবে অথবা সংবিধানের বাইরে গণভোট করতে হলে আলাদা একটা আইন পাস করতে হবে”।
গণভোট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুসারে সাংবিধানিকভাবে যে গণভোট, এই গণভোট (১২ ফেব্রুয়ারির) সেই গণভোট না। আমার রাজনৈতিক বক্তব্যটা বলছি, গণভোট অধ্যাদেশ অনুযায়ী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবং গণভোটের বৈধতা প্রশ্ন, সেটা যখন আমরা এই সরকারের অর্থাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের সমস্ত বিষয়াবলি যখন আমরা লেজিটেমেসি দেব সাংবিধানিকভাবে, চতুর্থ তফসিলে তখন তাদের এই সমস্ত কর্মকাণ্ড বৈধতা পেয়ে যাবে”।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “(গণভোট নিয়ে বিরোধীদলের) হুমকি দেওয়ার কোনো বিষয় নাই, বৈধতা তো আছেই, অবৈধ তো বলছি না। সুতরাং চতুর্থ তফসিলে যখন বিগত সরকারের সকল কর্মকাণ্ডকে দু'একটা বাদে বৈধতা দেওয়া হবে, তখন সেটা লেজিটিমেট হয়ে যাবে”।
সংসদে বিরোধী দলের একাধিকবার ওয়াকআউটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, “সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে একাধিকবার ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটলেও, অনেক ক্ষেত্রে তথ্য বিভ্রাটের কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ৯১টি বিল উপস্থাপনের প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে জানানো হয়, একাধিক সংশোধনীসহ একই অধ্যাদেশগুলো একত্রে বিল আকারে উপস্থাপন করায় সংখ্যাগত বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে”।
তিনি বলেন, “বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে বিরোধী সদস্যদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ হুবহু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং সংসদে তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয়েছে, যা সংসদীয় রীতিতে নজিরবিহীন বলে দাবি করা হয়”।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সংক্রান্ত বিল নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে সংশোধন এনে আরও গ্রহণযোগ্য করা হবে এবং এ বিষয়ে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
“এছাড়া গুম, মানবাধিকার কমিশন ও সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ তাৎক্ষণিকভাবে পাস না করে আরও পর্যালোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। এসব আইন যথাযথভাবে পরিমার্জন করে ভবিষ্যতে উপস্থাপন করা হবে, যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়”।
বিশেষ পরিস্থিতিতে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দু’একটি কর্মকাণ্ড বাদে বেশির ভাগ কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া হবে বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “গত ২৯ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সীমিত সময় হাতে থাকায় সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি আইন মন্ত্রণালয়ের ড্রাফটিং উইং, জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বিজি প্রেস ও সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন। এমনকি সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অধিবেশন চালিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
“তবে সময়স্বল্পতার কারণে কিছু বিলের কপি ও কম্পারেটিভ স্টেটমেন্ট সংসদে উত্থাপনের আগে পর্যাপ্ত সময় হাতে পাওয়া যায়নি বলে স্বীকার করা হয়। এ বিষয়ে সংসদের স্পিকারকে অবহিত করা হলে তিনি কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সময় মার্জনা (কন্ডন) করার এখতিয়ার প্রয়োগ করেন”।
মন্ত্রী বলেন, “অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি তাদের প্রতিবেদনে ১৩৩টি অধ্যাদেশকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে। এর মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত অবস্থায় পাসের সুপারিশ করা হয়। ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষে বিল আকারে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কিছু অধ্যাদেশ সংশোধন, রহিত বা সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়”।
একই সঙ্গে জাতীয় সংসদে সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে জারি করা সব অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা থাকলেও কার্যদিবসের সীমাবদ্ধতায় অল্প সময়ের মধ্যেই ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কার্যত মাত্র ১২-১৩ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির কাজ করতে হয়েছে, যা ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং বলে জানান তিনি।