কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:২৯ পিএম
মহিপুর মৎস্য আড়ৎ থেকে তোলা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর কলাপাড়া, কুয়াকাটা ও আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরে কয়েকগুণ বেড়েছে ইলিশের দাম। দেশের বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র আলীপুর ও মহিপুরের পাইকারী বাজারে সীমিত পরিসরে ছোট ও মাঝারী সাইজের ইলিশের দেখা মিললেও বড় সাইজের ইলিশ এখন দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, মহিপুর-আলীপুর মৎস্য বাজারে ৯০০ থেকে ১১০০ গ্রামের ইলিশের মন বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা, ৪০০ থকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং ছোট সাইজের জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা মন দরে।
সাধারণত বৈশাখে বড় ইলিশের চাহিদা বেশি থাকে। পাইকারি মন দরের হিসেবেই ৯০০-১১০০ গ্রামের ইলিশের পড়ছে কেজিতে ৩ হাজার টাকা।
পাইকারী বাজারের প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারগুলোতে। শহরের মাছ বাজারসহ জেলার সকল বাজারে আকাশ ছোঁয়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারন ক্রেতারা।
ইলিশের বাজার সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার মনিটরিংয়ের অনুরোধ জানিয়েছেন তারা ক্রেতারা।
মৎস্য আড়ৎ মালিকরা জানান, তেল সংকটে পর্যাপ্ত ফিশিং করতে পারছেন না জেলেরা। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে দীর্ঘ ৫৮ দিনের অবরোধ চলবে। আর এদিকে বাজারে চাহিদার চেয়ে ইলিশের অপ্রতুলতা এবং পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশের চাহিদা, সব মিলিয়ে দাম কিছুটা বেশি।
মহিপুর ভাই ভাই আড়দের বিক্রেতা মো. শাহআলম হাওলাদার বলেন, “সাগরে তেমন ইলিশ পড়ছে না, তার মধ্যে আবার সারাদেশে তৈলের সমস্যা। জেলেরা অনেকেই তৈলের সমস্যার কারনে সাগরে যেতে পারছেন না। আমাদের এখন মরার উপর খরার ঘাঁ। একদিকে সাগরে মাছ পাইনা, আরেক দিকে তৈলের সমস্যায় সাগরে যেতে পারছি না। তারপর আবার ১৫ এপ্রিল থেকে সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা।”
ইলিশ ক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, “আমি আজকে মহিপুরে ইলিশ মাছ কিনতে গিয়া অবাক হইয়া গেছি, স্বর্নের দামের চেয়েও ইলিশের দাম বেশি। ইলিশের গায়ে মনেহয় আগুন লাগছে। আমি একটি দাম বলায় বিক্রেতা আমারে বলে ঐ দামে ইলিশের আঁইশ নিতে পারেন।”
মহিপুর মৎস্য আড়ৎ সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি দিদার উদ্দিন আহমেদ মাসুম বলেন, “চাহিদা অনুযায়ী সাগরে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না, তার মধ্যে আবার তেল সংকট। বৈশাখের চাহিদা অনুযায়ী বাজারে তেমন ইলিশ নেই। তাই মৎস্য বাজারে মাছ না থাকায় ইলিশের দাম চড়া।”
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন,“পহেলা বৈশাখ বাংঙ্গালীজাতির ঐতিহ্য। বৈশাখকে কেন্দ্র করে সারাদেশে প্রতি বছরই ইলিশের একটা চাহিদা থাকে। সেই চাহিদা অনুযায়ী বাজারে তেমন ইলিশ নেই, তাই দামটা একটু বেশী। এছাড়া সাগরে ছেলেদের জালে তেমন ইলিশ পড়ছে না,আরেক দিকে তৈল সংকটে জেলেরাও তেমন সাগরে যেতে পারছে না।”