× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জলবায়ু অর্থায়ন ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে: ধরা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬ ২১:০৫ পিএম

ঢাকার একটি হোটেলে শনিবার ‘বাংলাদেশের জীবাশ্ম জ্বালানি রূপান্তর: প্রেক্ষিত ন্যায্যতা ও অর্থায়ন” শীর্ষক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ঢাকার একটি হোটেলে শনিবার ‘বাংলাদেশের জীবাশ্ম জ্বালানি রূপান্তর: প্রেক্ষিত ন্যায্যতা ও অর্থায়ন” শীর্ষক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

শুধুমাত্র ফসিল ফুয়েল থেকে বের হওয়ার রোডম্যাপ তৈরি করলেই যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে জলবায়ু অর্থায়ন ও ন্যায্যতার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি বলে দাবি করা হয়েছে। তা ছাড়া বর্তমান কার্বন মার্কেট ও কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থাগুলো উন্নত দেশসমূহকে দূষণ চালিয়ে যাওয়ার পরোক্ষ বৈধতা দেয়। তাই ফজিল ফুয়েল থেকে বেরিয়ে আসার রোডম্যাপ তৈরির পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ থাকা জরুরি বলে দাবি করেছে পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন।

ঢাকার একটি হোটেলে শনিবার ‘বাংলাদেশের জীবাশ্ম জ্বালানি রূপান্তর: প্রেক্ষিত ন্যায্যতা ও অর্থায়ন” শীর্ষক পরামর্শ সভায় তারা এসব দাবি করেন ।

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এবং ফসিল ফুয়েল ট্রিটি ইনিশিয়েটিভ-এর যৌথ উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। ধরার সহ-আহ্বায়ক এম. এস. সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভার প্রেক্ষাপট ও সূচনা বক্তব্য রাখেন ধরার সদস্য সচিব শরীফ জামিল এবং ‘জ্বালানি রূপান্তরের বিষয়সমূহ’ নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের গবেষণা প্রধান মো. ইকবাল ফারুক। 

শরীফ জামিল বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবাশ্ব জ্বালানি বিস্তারের নেতিবাচক অভিঘাতে কৃষক, জেলে, নারীসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠি অভাবনিয় দূর্দশার মধ্যে নিপাতিত। কাজেই জলবায়ু অর্থায়ন ও জীবাশ্ম জালানি থেকে বেরিয়ে আসা বাংলাদেশের জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র ফসিল ফুয়েল থেকে বের হওয়ার রোডম্যাপ তৈরি করলেই যথেষ্ট নয়। এর সাথে জলবায়ু অর্থায়ন ও ন্যায্যতার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।

বর্তমান কার্বন মার্কেট ও কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থাগুলো উন্নত দেশসমূহকে দূষণ চালিয়ে যাওয়ার পরোক্ষ বৈধতা দেয়। তাই ফজিল ফুয়েল থেকে বেরিয়ে আসার রোডম্যাপ তৈরির পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ থাকা জরুরি। 

বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে জ্বালানি ট্রানজিশন কেবল জলবায়ু নয়, আমাদের বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত; কিন্তু নীতিনির্ধারণের জায়গায় সেই দূরদর্শী চিন্তার ঘাটতি স্পষ্ট।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিপুল আমদানি নির্ভরতা এবং শক্তিশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ ট্রানজিশনের পথে বড় বাধা হয়ে আছে। সোলার খাতে ঘোষিত কম শুল্ক বাস্তবে অতিমূল্যায়নের কারণে অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারকে বাধাগ্রস্ত করছে। শক্ত রাজনৈতিক সদিচ্ছা, ন্যায্য নীতি এবং সহজ অর্থায়ন ছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই রূপান্তর অর্জন সম্ভব নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোশাহিদা সুলতানা বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকটের ফলে বাংলাদেশ ক্রমেই এলএনজি নির্ভরতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী চাপ সৃষ্টি করছে।

এলএনজি আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় ও ভর্তুকির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করলে তা আরও সাশ্রয়ী ও টেকসই হতে পারত। বিদেশি প্রভাবের কারণে দেশের জ্বালানি পরিকল্পনায় জাতীয় সক্ষমতা যথাযথভাবে গড়ে ওঠেনি এবং এর ফলে বাংলাদেশ ‘লক-ইন’ পরিস্থিতিতে পড়েছে। তারা সোলার রুফটপ ব্যবস্থায় নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবজনিত আস্থার সংকট দূর করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

পাশাপাশি এলএনজি আমদানিনির্ভর নতুন অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ করা, স্থানীয় পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা এবং ন্যায্য ও অংশগ্রহণমূলক জ্বালানি নীতি প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন “বাংলাদেশে জাস্ট ট্রানজিশন শুধু ফসিল ফুয়েল থেকে বের হওয়া নয়, বরং অ্যাডাপ্টেশন, কর্মসংস্থান এবং ন্যায্যতার প্রশ্নের সাথেও গভীরভাবে যুক্ত। কিন্তু গ্লোবাল আলোচনাকে আমরা এখনো কার্যকরভাবে জাতীয় নীতিতে রূপ দিতে পারিনি।

আমাদের এনডিসি, ন্যাপ ও এলটি-লেডস-এ স্পষ্ট রোডম্যাপ দরকার। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণে বিকল্প ন্যারেটিভ তৈরি না হলে জ্বালানি রূপান্তর বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই ডিমান্ড ও সাপ্লাই উভয় দিক থেকেই সমন্বিত, কাঠামোগত এবং ন্যায়ভিত্তিক ট্রানজিশনের জন্য এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা