প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:০৪ পিএম
আনন্দ শোভাযাত্রা। ছবি: ফেসবুক থেকে
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জননিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে পার্বত্য তিন জেলায় আয়োজিত উৎসবে মায়ানমারসহ কোনো বিদেশি নাগরিক যাতে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক কার্যপত্রে বৃহস্পতিবার এসব নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থান রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরে আয়োজিত সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করতে হবে। জননিরাপত্তার স্বার্থে বিকেল ৫টার পর এসব এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশও সীমিত করা হবে।
আসন্ন বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নববর্ষ উৎসব ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। র্যাব, পুলিশ, এসবি ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে সক্রিয় থাকবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নববর্ষের দিন (১৪ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।
হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং কোস্টগার্ডের নৌ টহল জোরদার থাকবে। ইভটিজিং, পকেটমার ও উশৃঙ্খলতা রোধে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে ফানুস ও আতশবাজি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারবিহীন কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না।
এ ছাড়া বড় জনসমাগমস্থলে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রমনা পার্ক এলাকায় জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য মেডিক্যাল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকবে।
ভিড়ে কেউ হারিয়ে গেলে সহায়তার জন্য রমনা পার্কে ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ কেন্দ্র স্থাপন এবং মাইকিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে।
সাইবার নিরাপত্তার বিষয়েও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা উসকানিমূলক প্রচার ঠেকাতে পুলিশের সাইবার ইউনিট ও সিআইডি সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবে।
শুধু ঢাকা নয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি জেলাগুলোতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উৎসব ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।