× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পর্যাপ্ত সরবরাহ সত্ত্বেও অকটেন সংকট

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০১ এএম

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:২৪ পিএম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির পরও কাটেনি প্যানিক বাইং। জ্বালানি তেলের সংকট আতঙ্কে বুধবার রাজধানীর পরীবাগে মেঘনা মডেল ফিলিং সার্ভিস স্টেশন থেকে তোলা। ছবি: আলী হোসেন মিন্টু

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির পরও কাটেনি প্যানিক বাইং। জ্বালানি তেলের সংকট আতঙ্কে বুধবার রাজধানীর পরীবাগে মেঘনা মডেল ফিলিং সার্ভিস স্টেশন থেকে তোলা। ছবি: আলী হোসেন মিন্টু

২০২৫ সালের মার্চ মাসে ৩৬ হাজার ৯৮৩ টন অকটেন সরবরাহ করেছিল রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে অকটেন সরবরাহ করা হয়েছে ৩৭ হাজার ৮২০ টন। সেই হিসাবে আগের বছরের তুলনায় ৮৩৭ টন বেশি অকটেন সরবরাহ করা হলেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী তেল মিলছে না।

গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ স্টেশনে ‘অকটেন নেই’ লেখা কাগজ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। দুয়েকটি ফিলিং স্টেশনে অকটেন সরবরাহ থাকলেও সেখানে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি লক্ষ করা গেছে।

ফিলিং স্টেশনে কর্মরত কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা সারাদিন অকটেন বিক্রি করেন না। দিনের নির্দিষ্ট একটি সময়ে অকটেন বিক্রি করা হয়। নির্ধারিত সময়ের পর বিক্রি শেষ হয়ে গেলে তা বন্ধ রাখা হয়। পরে বিপণন কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে পুনরায় সরবরাহ পেলে আবার বিক্রি শুরু করা হয়। এ কারণে ফিলিং স্টেশনে গিয়ে অনেক মোটরসাইকেল চালক অকটেন পাচ্ছেন না।

নগরীর হালিশহর এলাকার বাসিন্দা মাকসুদুল আলম অভিযোগ করেন, সোমবার সন্ধ্যায় তিনি অন্তত চারটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে কোথাও অকটেন পাননি। এর আগে দুপুরে একটি ফিলিং স্টেশনে অকটেন পাওয়া গেলেও সেখানে প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ মোটরসাইকেলের সারি থাকায় তিনি সেখান থেকেও তেল সংগ্রহ করতে পারেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) মো. ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, দেশে অকটেনের দৈনিক চাহিদা প্রায় ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন। সে হিসাবে গত বছরের মার্চ মাসে প্রায় ৩৬ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন অকটেন বিপণন করা হয়েছিল। চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রায় ৩৮ হাজার মেট্রিক টন অকটেন সরবরাহ করা হয়েছে।

বেশি সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে অকটেন নিয়ে কেন এই হাহাকারÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান সরবরাহের ভিত্তিতে সংকট হওয়ার কথা নয়। তাদের ধারণা, ‘প্যানিকড ক্রয়’-এর কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়তে পারে বা সংকট দেখা দিতে পারেÑ এমন আশঙ্কা থেকে মোটরসাইকেল মালিকরা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহ করছেন। ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।

মো. ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া আরও বলেন, আগে একজন মোটরসাইকেল চালক একবার তেল নেওয়ার পর সেটি শেষের দিকে এলে পুনরায় তেল নিতেন। কিন্তু বর্তমানে সেই প্রবণতা পরিবর্তিত হয়েছে; এখন অধিকাংশ চালক ট্যাংক পূর্ণ করে রাখতে চাইছেন। একবার ট্যাংক পূর্ণ করার পর অল্প কিছু তেল খরচ হলেই আবার সেটি পূর্ণ করে নিচ্ছেন। সবাই যদি এভাবে ট্যাংক ভরে রাখেন, তাহলে সরবরাহ ব্যবস্থায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, দেশে ৫০ লাখের বেশি মোটরসাইকেল রয়েছে। এখন প্রত্যেকে যদি ট্যাংকে গড়ে ৫ লিটার করে তেল মজুদ করে রাখেন, তাহলে একসঙ্গে প্রায় ২৫ হাজার লিটারের অতিরিক্ত চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ এই পরিমাণ অকটেন দিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রায় ২০ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে ডিজেলের। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তারা ৪৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বিক্রি করেছে। সে হিসাবে বর্তমানে দেশে ডিজেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৪৫ লাখ মেট্রিক টন। কারণ, দেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৪ শতাংশ হারে জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই হিসাব অনুযায়ী, দেশে পেট্রোলের বার্ষিক চাহিদা বর্তমানে প্রায় ৪ লাখ ৭০ থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন। অন্যদিকে, অকটেনের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। গত অর্থবছরে অকটেন বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৫৩ মেট্রিক টন।

যমুনা অয়েল কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ২২০ মেট্রিক টন অকটেন সরবরাহ করা হয়েছে। সে হিসাবে পুরো মাসে মোট সরবরাহ দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৮২০ মেট্রিক টন। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ১৯৩ মেট্রিক টন করে অকটেন সরবরাহ করা হয়েছিল, যা মাস শেষে মোট ৩৬ হাজার ৯৮৩ মেট্রিক টনে পৌঁছে। সেই তুলনায় চলতি বছরের মার্চ মাসে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ৮৩৭ মেট্রিক টন বেশি অকটেন সরবরাহ করেছে।

এদিকে, মেঘনা পেট্রোলিয়ামও চলতি বছরের মার্চ মাসে আগের বছরের একই সময়ের মতো প্রায় সমপরিমাণ অকটেন সরবরাহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির চট্টগ্রাম অঞ্চলে (চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ) সরবরাহকৃত অকটেনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এই অঞ্চলের ১৫টি জেলায় মোট ৩ হাজার ৩৬২ মেট্রিক টন অকটেন সরবরাহ করা হয়েছিল। আর চলতি বছরের মার্চ মাসে একই অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়েছে ৩ হাজার ২২৩ মেট্রিক টন। 

মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (চট্টগ্রাম) মো. ওমর ফারুক মিয়াজি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, গত বছরের মার্চ মাসে ফিলিং স্টেশনগুলো যে পরিমাণ তেল নিয়েছিল, চলতি বছরও প্রায় একই পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, আমরা যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করছি, তাতে অকটেনের সংকট হওয়ার কথা নয়। কিন্তু এরপরও ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেল চালকরা কেন অকটেন পাচ্ছেন না, সেটি আমরা বুঝতে পারছি না।

চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদস্য সচিব মঈন উদ্দিন বলেন, গত বছর এই সময়ে একটি ফিলিং স্টেশন যে পরিমাণ তেল নিয়েছিল, এখনও প্রায় একই পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। বাড়তি চাহিদার তুলনায় আমরা তেল পাচ্ছি না।

গত বছরের মতোই সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও এখন ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল পাওয়া যাচ্ছে না কেনÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিপিসি তেল ক্রয়ে সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ায় অনেক চালক একটি পাম্প থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল কেনার পর অন্য পাম্পে গিয়েও তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। মূলত তেলের সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কা থেকেই গাড়ির মালিকরা ট্যাংক ভরে রাখতে চাইছেন। এই ‘প্যানিকড ক্রয়’-এর কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা