× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পুলিশি পাহারায় নয়, নদীপাড়ের মানুষদেরই ইলিশ রক্ষা করতে হবে

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ২১:২৬ পিএম

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) আয়োজিত 'ইলিশ গবেষণা: অর্জিত সাফল্য, জাটকা সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ করণীয়' শীর্ষক কর্মশালায় বুধবার কথা বলেছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) আয়োজিত 'ইলিশ গবেষণা: অর্জিত সাফল্য, জাটকা সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ করণীয়' শীর্ষক কর্মশালায় বুধবার কথা বলেছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

পুলিশ দিয়ে পাহারার মাধ্যমে জাটকা ধরা বন্ধ করা যাবে না। বরং জেলে ও নদীপাড়ের লোকদের দ্বারাই জাটকা ধরা বন্ধ করে ইলিশসম্পদ রক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। 

ঢাকার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে বুধবার দুপুরে ৭-১৩ এপ্রিল জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ পালন উপলক্ষে এক কর্মশালা আয়োজিত হয়। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) আয়োজিত 'ইলিশ গবেষণা: অর্জিত সাফল্য, জাটকা সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ করণীয়' শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, “ইলিশটা ধরে কারা? কোন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা যায়? সরকার যায়? মূলত ইলিশ ধরছেন নদীপাড়ের এলাকার মানুষ। জেলেরা। এই জেলেরা যদি নিজেদের ভালো না বোঝেন তা হলে হবে না। ‘জাল যার জলা তার’ এই নীতিতে জাল যার জলাও তার। তাই আপনার নদী আপনি রক্ষা না করলে পুলিশ দিয়ে রক্ষা করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী দিনে যেন ছোট ইলিশ না ধরা হয়। বিজ্ঞানীরা সমাধান বের করুন কীভাবে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো যাবে। কেননা বিজ্ঞানীরা যে পরামর্শ দিবে আমরা তা বাস্তবায়ন করবো”।

তিনি বলেন, “ইলিশের উৎপাদন কীভাবে বাড়বে এটাই আমাদের করণীয়। আমরা দেখতে পাচ্ছি নানা ধরনের কর্মসূচির পরও কোনভাবেই জাটকা নিধন বন্ধ হচ্ছে না। জাটকা না ধরতে প্রয়োজনীয় সবকিছু দিয়েছে সরকার। তারপরও জাটকা ধরা বন্ধ করা যাচ্ছে না”।

মন্ত্রী বলেন, “পৃথিবী ভৌগোলিক কারণে, জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে বদলে যাচ্ছে। এটা চলমান প্রক্রিয়া, এটা হবেই। তারমধ্যে থেকেই সমাধান বের করতে হবে”।

ইলিশের চাষ সম্পর্কে তিনি বলেন, “পৃথিবীর সবচেয়ে দামি মাছ টুনাও এখন চাষ হচ্ছে, আমরা ইলিশ কেন পারবো না। নদীতে চর, ডুবোচরগুলো ড্রেজিং করা হবে। জাল যার, বিল ও নদীও তার। তাই  তাদেরকেই তা রক্ষা করতে হবে”।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “জেলেরা যাতে দুই মাস মাছ না ধরে সংসার চালাতে পারে, খেতে পারে সেজন্য ৪০ হাজার জেলেকে ৮০ কেজি চাল, ১০ কেজি তেলসহ ৬ হাজার টাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়া হচ্ছে। জেলেরা যদি জাটকা না ধরে দুই মাস পরে বড় ইলিশ ধরে তাহলে তাাদের দ্বিগুণ লাভ হবে। জেলেরা এ সময়ে ইলিশ না ধরে অন্য কাজ করবেন। আমরা আইন প্রয়োগ না করে বরং সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছি। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, নদীতে মাছ না থাকলে জেলে সম্প্রদায় কীভাবে বাঁচবে। আমরা জেলেদের সার্বিক সহযোগিতা চাই”। 

তিনি বলেন, “সব জাটকা একই সময়ে সাগরে ফিরে যায় না। বরং জাটকা বর্ষা শেষে নদীর পানি ঘোলা হওয়ার সময়ে সাগরে চলে যায়। আর বিশ্বে ৫ প্রকারের ইলিশের সন্ধান পাওয়া যায়। আর ইলিশ মাইগ্রেটরি মাছ হওয়ায় বাংলাদেশের ইলিশ ইরাক-ইরানেও ভ্রমণ করে এ ধরনের প্রমাণ পাওয়া গেছে”।  

এবারের জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে 'জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী'। দেশের ইলিশ সমৃদ্ধ ২০টি জেলায় সপ্তাহটি উদযাপন করা হচ্ছে।

বিএফআরআই’র মহাপরিচালক অনুরাধা ভদ্রের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সম্মানিত অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়টির সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফআরআই'র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আশরাফুল আলম।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা