প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ২১:১৩ পিএম
মশা। ছবি: বাসস
ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রকোপ সামনে রেখে মশা নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষানির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে হাঁটছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ভিন্ন ভিন্ন কীটনাশকের কার্যকারিতা যাচাইয়ে একাধিক ল্যাব ও মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা চালিয়ে ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
গুলশান নগর ভবনে সোমবার সকালে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডিএনসিসির আওতাধীন এলাকায় ডেঙ্গু মোকাবিলায় চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে মশক নিয়ন্ত্রণে গঠিত কারিগরি কমিটির এক জরুরি সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মশক নিধনে ভিন্ন ভিন্ন কীটনাশকের সমন্বিত ব্যবহার একাধিক ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে এবং পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে।
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, সামনে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাই এখনই কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। বর্তমানে লার্ভিসাইডিং কার্যক্রমে টেমিফস ব্যবহার হচ্ছে। তবে বিশ্বের কিছু দেশে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ (রেজিস্ট্যান্স) তৈরি হয়েছে। নির্দিষ্ট মাত্রা অনুসরণ না করলে এ প্রতিরোধ দ্রুত বাড়তে পারে। তিনি বায়োলজিক্যাল কন্ট্রোল ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে অন্তত পাঁচটি ভিন্ন স্থানে পরীক্ষা পরিচালনার পরামর্শ দেন।
কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার জানান, নোভালিয়ন, ম্যালাথিয়ন ও টেমিফসÑ এই তিন কীটনাশকের সেমি-ফিল্ড, ফিল্ড ও ল্যাব পর্যায়ে পরীক্ষায় ম্যালাথিয়ন তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। বিকল্প হিসেবে বিটিআই ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা যেতে পারে বলে তিনি মতামত দেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফগিং কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল দেয় না। তাই ধীরে ধীরে ফগিংনির্ভরতা কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বেনজির আহমেদ বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে সোর্স রিডাকশন বা প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।
প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. গোলাম সারোয়ার, ড. রাজিব চৌধুরী প্রমুখ।