আসাদুজ্জামান সম্রাট
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:১৮ এএম
আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৫৭ এএম
কানিজ মওলা। ফাইল ছবি
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া জাতীয় সংসদের সদ্যবিদায়ী সচিব কানিজ মওলা সংসদ সচিবালয়কে অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া সোহেল আহমেদের স্ত্রী পরিচয়ধারী এই কর্মকর্তা ক্ষমতার দাপটে ব্যবহার করতেন স্পিকারের জন্য নির্ধারিত গাড়ি।
চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তবে এসব বিষয় নির্বাচিত সরকারের দৃষ্টিতে আসার পরপরই তাকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথমে তাকে বদলি করা হয় আইএমইডির সচিব পদে। এর পরপরই তাকে বদলি করা হয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে।
হুইপস ব্রিফিংয়ে অনুপস্থিতি
সংসদ সচিবালয় এবং এর কার্যাবলি সম্পর্কে জাতীয় সংসদে নবনিযুক্ত চিফ হুইপ ও হুইপদের ব্রিফ করার উদ্দেশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ব্রিফিং সেশন হয়। সাধারণত জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব হুইপদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন। মন্ত্রণালয়গুলোর ক্ষেত্রে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ব্রিফ করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব। কিন্তু কানিজ মওলা সংসদ সচিবালয়ের এই ব্রিফিং সেশনে নিজে না গিয়ে তাদের ব্রিফ করার জন্য একজন অতিরিক্ত সচিবকে পাঠিয়ে দেন। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি অনুষ্ঠানে সংসদ সচিবের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘সচিব আমাকে পাঠিয়েছেন।’ এ পর্যায়ে চিফ হুইপ নিজেই সচিবের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, এখানে তার কোনো কাজ নেই। সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সচিব তাদের ব্রিফ করবেন। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ পূর্ণমন্ত্রী ও হুইপরা প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদার হলেও সচিবের এই আচরণ তাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করে। জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে কানিজ মওলাকে সরিয়ে দেওয়ার এটিও একটি কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
স্পিকারের গাড়ি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সফর
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সংসদের দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) অতিরিক্ত সচিব কানিজ মওলাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়। সচিব হিসেবে সংসদ সচিবালয়ে যোগদানের পরপরই তিনি নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। এর মধ্যে সবচেয়ে স্পর্শকাতর অনিয়ম হচ্ছে, জাতীয় সংসদের স্পিকারের জন্য বরাদ্দকৃত দুটি গাড়ি ব্যবহার ও ৯ হাজার ৪৮০ লিটার তেল ব্যয় করা। একটি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সংযুক্ত নথিসহ এ ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে জমা দিয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সংশ্লিষ্ট গাড়ি জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকারের জন্য সংরক্ষিত ও এয়ার মার্ক করা, যা স্পিকার ব্যতীত অন্য কারও ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত নয়।’ ঢাকা-মেট্টো-ঘ ১৬-৬০০১ ও ঢাকা-মেট্টো-ঘ-৫৫০০ নম্বরের এই গাড়ি দুটি ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই থেকে ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে নীতিমালা সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের সচিব সরকারি পরিবহন পুল থেকে একটি গাড়ি প্রাধিকার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পান, যা সংসদ সচিব ইতোমধ্যে ব্যবহার করছেন। এছাড়া তিনি সুদমুক্ত সরকারি গাড়ি ঋণ সুবিধায় গ্রহণ করেছেন। তারপরও স্পিকারের জন্য সংরক্ষিত এয়ার মার্ক করা জিপ ব্যবহার করে ঢাকার বাইরে ময়মনসিংহ, নরসিংদী, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তিগত সফর পরিচালনা করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। মোট ৯ হাজার ৪৮০ লিটার সরকারি জ্বালানি উত্তোলনও নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ সম্পর্কে জানতে জাতীয় সংসদের পরিবহন শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য দিতেও রাজি হননি।
সংসদ না থাকলেও ইউরোপ সফর
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরের দিন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত হয়ে যায়। এরপর প্রায় ১৬ মাস সংসদ সচিবালয়ের ১৪০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে বেশিরভাগেরই তেমন কোনো কাজ ছিল না। তাছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের ২০২৫ সালের ১ নভেম্বরের নির্দেশনায় পরবর্তী সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত কর্মকর্তাদের একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা হয়। এরপরও সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ ১২ জন কর্মকর্তা দুই দফায় এস্তোনিয়া ও ইতালি ভ্রমণ করেন। এর মধ্যে গত বছরের ২১ নভেম্বর বিদেশ সফরে যান সচিব কানিজ মওলাসহ ৬ জন কর্মকর্তা। আরেক গ্রুপে ৬ কর্মকর্তা যান ২ ডিসেম্বর।
সংসদ সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিদেশ ভ্রমণ-সংক্রান্ত নির্দেশনাকে পাশ কাটিয়ে যে ১২ জন বিদেশ ভ্রমণ করছেন, তার মধ্যে সংসদের নিজস্ব কর্মকর্তা মাত্র ৩ জন। বাকিরা ৫ আগস্টের পর ডেপুটেশনে সংসদ সচিবালয়ে যোগ দেন। ফলে মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে ইতালি ও এস্তোনিয়া সংসদ লার্নিং ভিজিটের কোনো অভিজ্ঞতা সংসদ সচিবালয়ের কোনো কাজে আসবে না। অভিযোগÑ বিদেশ ভ্রমণকালে কানিজ মওলা মেয়ের বিয়ের কেনাকাটার জন্য ব্যাংককে ট্রানজিটসহ টিকিট করিয়েছিলেন।
ব্যাকডেটে যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি : জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিমের পিএস সংসদ সচিবালয়ের উপসচিব শাহান শাহ আযাদ কবীর গত বছরের ১৭ আগস্ট চাকরির বয়স ৫৯ বছর পূর্ণ হওয়ায় পিআরএলে যান। তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ সচিবালয় থেকে গত ১৪ আগস্ট বিদায় সংবর্ধনাও দেওয়া হয়। উপসচিব হিসেবে পিআরএলে যাওয়ার পর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের ছবি দিয়ে তার দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সামাজিক মাধ্যমে পোস্টও দেন। কিন্তু পিআরএলে যাওয়ার তিন মাস পর সংসদ সচিবালয় গোপনে ব্যাকডেটে এ কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এ ঘটনায় কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, মানবসম্পদ বিভাগ থেকে উপসচিব আযাদ কবীরের পিআরএল আদেশ জারির নথি উত্থাপন করলেও সচিব কানিজ মওলা সেই নথি আটকে রাখেন। ফলে প্রায় ৩ মাস অতিক্রান্ত হলেও পিআরএল আদেশ জারি হয়নি। অথচ নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়ার আদেশ ১৪ আগস্টের তারিখ দিয়ে জারি করা হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সংসদ সচিবালয়ের মানবসম্পদ-১-এর যিনি এ আদেশে সই করেছেন, সেই সহকারী সচিব শহিদুল ইসলাম ওই তারিখে মানবসম্পদ-১ শাখার দায়িত্বে ছিলেন না। তাছাড়া তিনি যুগ্ম সচিব হিসেবে ব্যাকডেটের বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দিয়ে বর্ধিত পেনশন সুবিধা এজি অফিস থেকে তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়াও শেষ করেছেন।
প্রসঙ্গত, সংসদ সচিবালয়ের উপসচিবদের ও পরিচালকদের মধ্যে শাহান শাহ আযাদ কবীর জুনিয়র হওয়ার পরও সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিমের আত্মীয় হওয়ায় ২০২৪ সালের ১১ জুলাই তাকে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য স্পিকার বরাবর সুপারিশ পাঠানো হয়। কিন্তু স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা দেখা করে আপত্তি জানালে তিনি সেই নথিতে সই করা থেকে বিরত থাকেন। এরপর ৫ আগস্ট-পরবর্তী দুজন সংসদ সচিবও এ পদোন্নতির সুপারিশ বেআইনি বলে তা কার্যকর করার উদ্যোগ নেননি। অভিযোগÑ কানিজ মওলা সচিব পদে যোগ দেওয়ার পর সেই নথিতে গত নভেম্বর মাসে স্পিকারের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের স্বাক্ষর এনে ব্যাকডেটে তাকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ
জাতীয় সংসদের সংবাদ পরিবেশনের জন্য নিয়মিত সাংবাদিকরা সংসদ সচিবালয়ে গিয়ে থাকেন। কিন্তু কানিজ মওলা সংসদ সচিব হিসেবে কাজ শুরুর পর জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে সাংবাদিক প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন। সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান কাভারের জন্যও কোনো সাংবাদিককে অনুমতি দেননি কানিজ মওলা। ফলে স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান কভার করতে পারেননি সাংবাদিকরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী দিনে দেশের খ্যাতনামা সম্পাদক ও সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও নানা অনিয়মের আশ্রয় নেন এই সচিব। তিনি ৪০ জনকে আমন্ত্রণপত্র দিলেও সে তালিকায় মূলধারার অনেক শীর্ষ দৈনিকের সম্পাদক ও সাংবাদিকরা ছিলেন না। কানিজ মওলা ঘোষণা করেন, সংসদ অধিবেশন কাভারের জন্য মাত্র ৮০ জন সাংবাদিকের গ্যালারি পাস দেওয়া হবে। এতে জাতীয় সংসদের গণসংযোগ শাখা দ্বিমত জানালে তথ্য সাংবাদিক গ্যালারি পাস ইস্যুর দায়িত্ব দেওয়া হয় তথ্য অধিদপ্তরকে। অধিদপ্তর সাপ্তাহিক পত্রিকা থেকে শুরু করে আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার সাংবাদিকদের নামেও পাস ইস্যু করে।
ক্যান্টিন নিয়েও তেলেসমাতি
জাতীয় সংসদের তৃতীয় তলায় ভিআইপি ক্যাফেটেরিয়ার দায়িত্বে ছিল পর্যটন করপোরেশন। কানিজ মওলা দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ক্যান্টিনের দায়িত্ব থেকে পর্যটন করপোরেশনকে সরিয়ে ঢাকার বাইরের ৫ জনকে ক্যান্টিন পরিচালনার জন্য লিজ প্রদান করেন। যাদের এমন ভিআইপি ক্যান্টিন পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবস থেকেই ক্যান্টিনের নানা অব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।
বাসা বরাদ্দেও অনিয়ম
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসা বরাদ্দের ক্ষেত্রেও তুঘলকি কারবার করেছেন এই কানিজ মওলা। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে নির্বাচনের আগেই কানিজ মওলা লিস্ট করে বরাদ্দ কমিটিকে চাপ দিয়ে একসঙ্গে ১২৬টা বাসার বরাদ্দ দেন। যেখানে অতীতে কোনো মিটিংয়ে কখনোই ২০-২৫টার বেশি বাসা দেওয়া হতো না। জাতীয় সংসদের পশ্চিমাংশে তালুকদার ফিলিং স্টেশন, এলডি হল ভাড়া, বাড়ি বরাদ্দ, সংসদ ভবনের বিভিন্ন কেনাকাটা, ঠিকাদারি, আউটসোর্সিং চাকরি, অফিসার ও স্টাফদের ঝুলে থাকা পদোন্নতিÑ এমনকি পিডব্লিউডির কাজ ও বিভিন্ন সাপ্লাইয়ের কাজেও তিনি ও তার নিকটজন হস্তক্ষেপ করেছেন। অভিযোগÑ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রায় ২ কোটি টাকার কাজও তিনি গণপূর্তের প্রকৌশলীদের তোয়াক্কা না করে হাতিয়ে নিয়েছেন।
মেয়ের বিয়েতে প্রভাব খাটিয়ে ভেন্যু দখল
গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদের এলডি হলে বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য বুকিং ছিল সংসদ সচিবালয়ের সাবেক পরিচালক ও পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবের সদস্য কামরুল ইসলামের মেয়ের। এরই মধ্যে হঠাৎ সচিব কানিজ মওলার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানের দিন নির্ধারিত হয়। তিনি ২৮ ডিসেম্বর ও ৩০ ডিসেম্বর দুদিন মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান করেন। এজন্য নিয়মের তোয়াক্কা না করে কামরুল ইসলামের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানের বুকিং বাতিল করা হয়। এ নিয়ে কামরুল ইসলাম তার সঙ্গে দেখা করলে তিনি বলেন, ‘আমি সংসদের সচিব। এখন সংসদ নেই। আমি যেটা করবÑ সেটাই নিয়ম।’ গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় কামরুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠান করতে চেয়েছিলাম। কানিজ মওলা তার ডেকোরেশন নষ্ট হবেÑ এমন অজুহাত দেখিয়ে আমাকে অনুষ্ঠান করতে দেননি।’ তিনি বলেন, ‘আমি পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবের সদস্য। তিনি আমার বুকিং বাতিল করতে পারেন না।’
মিডিয়ার সাথে কথা বলি না
এসব ব্যাপারে কানিজ মওলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনি জানেন, আমি সংসদ সচিবালয়ে থাকতেও মিডিয়ার সাথে কথা বলিনি। এখনও বলতে চাচ্ছি না।’ তার স্বামী সোহেলের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি উত্তর দেন, ‘আমি এসব নিয়ে কী বলব? আপনি সচিবের সঙ্গে কথা বলেন। আমি স্বামী বলে কথা বলতে হবে কেন?’
অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা
এসব অভিযোগ সম্পর্কে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আমরা তো মাত্রই দায়িত্ব পেয়েছি। তিনি তো আর সংসদ সচিবালয়ে নেই। আপনারা রিপোর্ট করেন। আমলযোগ্য বিষয় হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ প্রসঙ্গে সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস কমোডর আসাদুজ্জামান বলেন, ‘উনি তো এখন আর সংসদ সচিবালয়ে নেই। আমিও এখানে নতুন। তার বিষয়ে কোনো রিপোর্ট আমার কাছে আসেনি। আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।’