প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৩৫ পিএম
র্যাবের বিরুদ্ধে গুম ও ক্রসফায়ারের অভিযোগে চলমান ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট মামলায় ঢাকার কাওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে রবিবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় কথা বলেন সংস্থাটির মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবিব পলাশ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) বিরুদ্ধে গুম ও ক্রসফায়ারের অভিযোগে চলমান ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট মামলায় এখনও কোনো সহযোগিতা চাওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবিব পলাশ। তবে ট্রাইব্যুনাল সহায়তা চাইলে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।
ঢাকার কাওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে রবিবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর র্যাবের ক্রসফায়ারের নথি তলব ও তদন্ত করার কথা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিজি বলেন, “বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হলে র্যাব তা দেবে।
“আমাদের কাছে যা তথ্য আছে, আমরা তা প্রদান করবো। কোনো তথ্য না থাকলে তা জানিয়ে দেবো। তবে এখনো ট্রাইব্যুনাল আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।”
র্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে দেশি-বিদেশি সংস্থার চাপ নিয়ে জানতে চাইলে আহসান হাবিব পলাশ বলেন, “এ ধরনের সিদ্ধান্ত সরকারের বিষয়। র্যাবের দায়িত্ব হলো অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা এবং কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করা।”
র্যাবকে অতীতে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিজি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে বড় ধরনের অপকর্মের নজির কম। সঠিকভাবে পরিচালনা করা হলে র্যাব ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।”
জলদস্যুতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমনে নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কিনা—এ প্রশ্নে তিনি জানান, এ বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং তথ্য সংগ্রহ করে কাজ চলছে।
জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে সরাসরি মন্তব্য না করলেও তিনি বলেন, “যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় র্যাব কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।”
কিশোর গ্যাং নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে র্যাব ডিজি বলেন, “দেশে এ সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে কাজ করছে। তবে কিশোরদের আইনের আওতায় আনা অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং।” এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদেরও তথ্য অনুসন্ধানের মাধ্যমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
র্যাবের নাম পরিবর্তন বা পুনর্গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত। “আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে দায়িত্ব পালন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।”
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অতীতে কিছু বিচ্যুতি থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ত্রুটিগুলো সংশোধন করা গেলে ভবিষ্যতে এসব নিষেধাজ্ঞা থাকবে না বলে আশা করি।”