× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল: ভরসা যখন নিয়তি

মাসুদুল হাসান

প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:০০ পিএম

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:০০ পিএম

প্রতীকি ছবি

প্রতীকি ছবি

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু যেন একটি সংখ্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ঊর্ধ্বমুখী গতি থামছে না। নিয়তিকে ভরসা মেনে নিয়েই পথে বেরুতে হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে, গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত পরিবহনের চালকদের দক্ষতার ঘাটতি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদাসীনতা, পাশাপাশি সড়কের নকশাগত ত্রুটির বিষয়ও উঠে এসেছে। কথাও বলছেন তারা। সড়কে ধারাবাহিক দুর্ঘটনার ও এর ফলে মৃত্যু ও আহতের তালিকা বেড়ে যাওয়ার নেপথ্যে বিভিন্ন রকম কারণ ক্রীড়াশীল রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাম্প্রতিক হিসাব থেকে জানা যায়, এবারের ঈদযাত্রায় গত ২৪ মার্চ পর্যন্ত ২০০-এর অধিক প্রাণহানি ঘটেছে। গত ৩০ মার্চ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব মতে এবারের ঈদযাত্রায় মার্চের ১৪ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্তÑ ১৫ দিনে সারা দেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জনের মৃত্যু ও এক হাজার ২৮৮ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত ও এক হাজার ৪৬ জন আহত হয়েছেন।


জানা যায়, প্রায় ৫০ শতাংশ দুর্ঘটনা মোটরবাইকের মাধ্যমে ঘটছে। চালকদের বড় একটি অংশের বৈধ লাইসেন্স নেই এবং কিছু ক্ষেত্রে বিআরটিএ’র বিপক্ষে যথাযথ টেস্ট না করেই লাইসেন্স ইস্যু করার অভিযোগ রয়েছে। এই অদক্ষ চালকরা সড়কে চলাচল করলে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে তারা ট্রাফিক আইন ও সিগন্যাল মানতে চান না। তাদের সচেতনতা বাড়ানোর দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই।


দীর্ঘ যাত্রায় দুই চাকার বাহনে যাওয়া সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ। একই সড়কে বিশাল আকৃতির তীব্র গতির বাস ট্রাকের পাশাপাশি মোটরবাইক চলাচলে ভারসাম্য রাখতে পারে না। উপরন্তু মোটরবাইক চালানোর জন্য আলাদা কোনো লেন নেই। মোটরবাইক দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ওভারটেকিং প্রবণতা এবং হেলমেট না পরিধান করায় এই মৃত্যু আনুপাতিক হারে বাড়ছেই।


ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকার ক্ষেত্রে সড়ক বিভাজক উঁচু না থাকা, পথচারীদের জেব্রা ক্রসিং না মানা ও ওভারব্রিজ ব্যবহার না করা দুর্ঘটনা ‍ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার কারণ। ধীর গতির যানবাহন, বিশেষ করে রিকশা, ভ্যানের সাথে ব্যস্ত সড়কে বাস-মোটরবাইক, ব্যক্তিগত গাড়ি মিলেমিশে পরিস্থিতি অনিরাপদ করে তুলছে। ঢাকার ভেতরের দুর্ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করে বেশকিছু কারণ খুঁজে পাওয়া যায়। এর মধ্যে ফুটপাত দখলের কারণে পথচারীদের মূল সড়ক ধরে চলাচল করতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। রাস্তা দখল করে ভ্রাম্যমাণ বাজার বসানোর ফলে শহরের প্রধান সড়কের বড় অংশ দখল হয়ে পড়ে। অধিকাংশ পথচারী ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করতে চান না। আবার অনেক এলাকায় রাস্তার ওপর পর্যাপ্ত ফুট ওভারব্রিজ নেই এবং সেগুলো ওপরে ওঠার জন্য প্রবীণ ও শিশুদের সমস্যা হয়। বনানীর ফুট ওভারব্রিজ্রের লিফট নষ্ট। ঢাকায় দুর্ঘটনার একটি অন্যতম কারণ ব্যস্ত সড়কের ওপর রেল ক্রসিং থাকা। একে তো রাজধানীর কোথাও কোথাও ফুট ওভারব্রিজ নেই। যেমন রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা কুড়িল চৌরাস্তা ও বিশ্বরোডের মাঝামাঝি এলিভেটেড এক্সপ্রেসে ওঠার একটি র‌্যাম্প ও এর পরেই রেল ক্রসিং পার হয়ে বিশ্বরোডের মূল সড়কে যেতে হয়। অথচ এ রাস্তায় কোনো ফুট ওভারব্রিজ নেই। কিংবা বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। সঙ্গে যোগ হয়েছে চালকদের বেপরোয়ো গতি।


প্রায় ২৫ বছর ঢাকার বাইরে কাজ করেছেন ট্রাফিক পরিদর্শক কামালউদ্দিন। দুর্ঘটনার কারণ বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকার বাইরে দুর্ঘটনার বড় কারণ বেপরোয়া গতি। সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক দুর্ঘটনার একটি কারণ বলেও তিনি জানান। এ ছাড়া রাতের সড়কে আলোর স্বল্পতায় দূরপাল্লার যানবাহনের চালকদের নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানোর চাপ থাকে। এ ছাড়া মহাসড়কে চালকদের বিশ্রাম করার মতো পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। একটানা গাড়ি চালাতে গিয়ে মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি চলে আসে। এসব কিছু মহাসড়কে দুর্ঘটনার ট্রিগার ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে বলে এই পুলিশ পরিদর্শক জানান।


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও দুর্ঘটনা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক হাদিউজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, সড়ক মহাসড়কে গতির পরিবর্তন দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে একটি বড় প্রভাবক। দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে হলে সড়ক, চালক, মালিক, যানবাহন ও কর্তৃপক্ষÑ এই ৫টি বিষয়ে পরিবর্তন আনতে হবে।


বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কগুলোতে থ্রি-হুইলার সিএনজিসহ ধীরগতির যানবাহনের সাথে ভারী যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে একটি বড় অংশের দুর্ঘটনা ঘটে। মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল দুর্ঘটনা বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ। ধীরগতির যান এবং অবৈধ যান মহাসড়কের ভারী বাস-ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ এসব যানের জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে এবং নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে দুর্ঘটনা ঘটায়। নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিআরটিএর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দুর্ঘটনার সংখ্যা কমিয়ে আনতে শিক্ষিত লোকদের চালকের পেশায় আসতে হবে, তবে ট্রাফিক পুলিশের দুর্ব্যবহারের কারণে শিক্ষিত লোকজন এ পেশায় থাকতে চান না।


তিনি বলেন, ঢাকাতে ১২ জন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে বিআরটিএর অভিযান চালানো হয়, এই সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। কিছু বিভাগীয় শহরের অফিসার ছাড়া বিআরটিএর নিজস্ব কোনো ম্যাজিস্ট্রেট নেই। এই কর্মকর্তা আরও বলেন, রাজধানীতে ফুটপাত দখলমুক্ত করলে মানুষজন মূল সড়কে নেমে আসবে না, এতে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমে যাবে। মহাসড়কে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ সার্ভিস লেন না থাকা। এতে ছোট ও স্বল্পগতির যানবাহনগুলো মূল সড়কে উঠে আসায় দুর্ঘটনা বাড়ছে।

সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গণপরিবহনে জিপিএস প্রযুক্তি চালু করার কথা বলেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর তরিকুল ওমর। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে গণপরিবহনে এই প্রযুক্তি চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর সুবিধা বিষয়ে তিনি বলেন, এতে চালকেরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা হবে এবং তিনবার একই কাজ করলে তার লাইসেন্স বাতিল করা হবে। এই কর্মকর্তা বলেন, রাত ১০টার আগে ভারী যানবাহন ঢাকাতে প্রবেশ করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। এই প্রযুক্তি ব্যবহারে সঠিক নজরদারি সম্ভব হবে। আর ট্রাফিক পুলিশকে দুর্ঘটনা রোধে সক্রিয় হতে হবে।


ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিকের অতিরিক্ত কমিশনার আনিছুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, রাজধানীর দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আমরা সবসময় সচেষ্ট থাকি। নিয়মিত চেকপোস্ট বসানো হয়। তবে জনবল সংকটের কারণে সকল স্পটে নজরদারি সম্ভব হয় না।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা