কুমিল্লা অফিস
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:১৪ পিএম
আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৫২ পিএম
কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে শনিবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
চলমান পাবলিক পরীক্ষাসহ কোনো পরীক্ষাতেই নকল করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, নকলের সহযোগিতাকারীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে শনিবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডসহ মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, “কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকলের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি প্রতিষ্ঠানের বাথরুমে নকল পাওয়া গেলেও প্রতিষ্ঠান প্রধানকে জবাবদিহি করতে হবে। বাইরে থেকে কেউ নকলের সহযোগিতা করলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না”।
খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “কোনো শিক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর কম-বেশি দিলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আইন রয়েছে। এখন থেকে পাবলিক পরীক্ষা হোক কিংবা চাকরির ইন্টারভিউ—সব ক্ষেত্রেই একই নিয়ম কার্যকর থাকবে” যোগ করেন তিনি।
নকলবিরোধী অভিযানে রাজনৈতিক সমর্থনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া তাকে এ বিষয়ে সবসময় সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে নকলমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন”।
শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সৎ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে তা হবে ‘সাদগায়ে জারিয়া’র সওয়াবের অংশীদার হওয়া। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে তিনি ‘এবাদতখানা’ হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, “দেশে নকলের প্রচলন দীর্ঘদিনের হলেও এখন আর সে সুযোগ রাখা হবে না। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে এবং সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হবে”।
এছাড়া কোচিং সেন্টার বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “এই দেশে আর কোচিং সেন্টার চলতে দেওয়া হবে না।” একই সঙ্গে অনুমোদনহীন কিন্ডারগার্টেনগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. শামছুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন ডেপুটি কন্ট্রোলার মো. কবির আহমেদ।