ইউএনবি
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৩১ পিএম
আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৪৮ পিএম
এক সংবাদ সম্মেলনে শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। ছবি: ইউএনবি
দেশে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রবিবার (৫ এপ্রিল) থেকে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, আগামীকাল সকাল ৯টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিভিন্ন জেলায় উদ্বোধনে অংশ নেবেন, যা সরকারের সর্বাত্মক প্রস্তুতির প্রতিফলন।
এক সংবাদ সম্মেলনে শনিবার তিনি এসব কথা জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে বর্তমানে কিছু এলাকায় হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশেষ করে ছোট শিশুদের ওপর বেশি প্রভাব ফেলছে। সরকার এই পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করছে”।
তিনি জানান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে জাতীয় টিকাদান বিষয়ক কারিগরি পরামর্শক কমিটি (নিটাগ) জরুরি এই টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণের সুপারিশ করেছে। এর লক্ষ্য দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, “এই কর্মসূচির আওতায় ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তারা আগে টিকা নিয়ে থাকুক বা না থাকুক। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, কোনো শিশুই সুরক্ষার বাইরে না থাকে”।
কর্মসূচিটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৩০টি উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হয়ে পরবর্তীতে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী ২১ মে’র মধ্যে, পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এই কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসুন। তবে যেসব শিশুর জ্বর বা অসুস্থতা রয়েছে, তারা সুস্থ হওয়ার পর টিকা গ্রহণ করবে”।
মন্ত্রী জানান, হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে সহায়ক।
তিনি বলেন, “টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, কোল্ড চেইন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে”।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “এই কর্মসূচি সফল করতে অভিভাবক, স্থানীয় নেতৃত্ব, গণমাধ্যমসহ সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। গুজব প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে”।
দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “ব্যবহৃত টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে আমরা হাম রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হব”।