বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:০৫ পিএম
আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৩৭ পিএম
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানরা মিনিবাসে একসঙ্গে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল যাতায়াত করেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে একটি ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিতব্য ডিজিটাল কৃষক কার্ড উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রস্তুতি সভায় এই উদ্যোগ দেখা যায়।
প্রস্তুতিমূলক এই সভায় অংশ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সম্মিলিতভাবে জ্বালানি সাশ্রয়ের একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
জানা গেছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে ১৭টি দপ্তর ও সংস্থা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ‘ডিজিটাল কৃষক কার্ড’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা প্রাথমিকভাবে ১০ ধরনের সেবা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে ভর্তুকিতে সার, উন্নত বীজ, কীটনাশক, সেচ সুবিধা, আবহাওয়া তথ্য ও কৃষি পরামর্শ।
এ উপলক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে জেলাপ্রশাসকের কার্যালয়ে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, এসএসএফ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে কৃচ্ছ্রসাধনের বার্তা
তবে সভার মূল আকর্ষণ ছিল কর্মকর্তাদের যাতায়াতের ধরন। বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা একাধিক গাড়ি ব্যবহার না করে একটি মিনিবাসে একসঙ্গে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল যাতায়াত করেন।
এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে কৃচ্ছ্রসাধনের একটি শক্ত বার্তাও পৌঁছেছে।
অনুষ্ঠানে অংশ নিতে একই গাড়িতে যাতয়াত করেন- কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাসির-উদ-দৌলা, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম খান, বিএডিসির চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. আজিজুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো. ড. মো. মাহমুদুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম ও বিএআরসির চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালাম।
এছাড়া বিভাগীয় কমিশনারসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও সম্মিলিতভাবে এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানি খাতে যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী।
তাদের মতে, উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এমন সচেতনতা অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের জন্যও অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হতে পারে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি ব্যয় সংকোচন ও পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হবে।
সব মিলিয়ে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। বরং এটি সংকটকালীন সময়ে দায়িত্বশীল ও বাস্তবসম্মত রাষ্ট্র পরিচালনার একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।