প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৩৮ এএম
আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১২ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৃহস্পতিবার রাতে সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ফেসবুক পেজ
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশের সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত করা হয়েছে। আর ব্যাংকে লেনদেন চলবে সকাল ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত এবং বন্ধ হবে বিকাল ৪টার মধ্যে। এ ছাড়া দেশের সব দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ হবে। যা আজ শুক্রবার থেকেই কার্যকর হবে (অফিস-ব্যাংক রবিবার থেকে)।
তবে হোটেল, ফার্মেসি এবং জরুরি প্রয়োজনীয় সেবার দোকান, কাঁচাবাজার এর আওতাবহির্ভূত থাকবে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে এ সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ব্রিফিংয়ে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি সালেহ শিবলীসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে দেশের সব দোকানপাট ও শপিং মল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতি। তবে সরকার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বৈঠকে আগামী তিন মাস সরকারের খরচ কমাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই সময়ে নতুন কোনো যানবাহন (গাড়ি, জলযান বা আকাশযান) এবং কম্পিউটারসামগ্রী কেনা হবে না। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে।
সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে সরকারের ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে। এ ছাড়া ভ্রমণ ব্যয়ও কমাতে বলা হয়েছে। তা ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে। বিয়ে বা উৎসবে কোনো আলোকসজ্জা করা যাবে না।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে নির্দেশনা রবিবার
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা নির্দেশনা দেবে। কারণ, এ বিষয়ে কিছু ক্ষেত্রে আলোচনার দরকার আছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী রবিবার থেকে স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান–সংক্রান্ত আলাদা নির্দেশনা দেওয়া শুরু করবে। তবে শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, তা বিবেচনায় রাখা হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ইলেকট্রিক বাস নামানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিদ্যালয়গুলো এসব বাস বিনা শুল্কে আমদানি করতে পারবে। তবে বাণিজ্যিকভাবে আনলে ২০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হবে। এ ক্ষেত্রে শর্ত হলো, বাসগুলো অবশ্যই নতুন হতে হবে।
এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ছিল, আপাতত সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস নেওয়া। যার মধ্যে জোড়-বিজোড় মিলিয়ে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীর পাঠদানের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। অর্থাৎ এক দিন অনলাইনে ক্লাস হলে পরদিন সশরীর ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অনলাইনে ক্লাস হলেও শিক্ষকেরা সশরীর উপস্থিত থেকে পাঠদান করবেন। ব্যবহারিক ক্লাস হবে সশরীর।
বৈঠকে ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইনের সংশোধনীর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পরীক্ষায় সব ধরনের অপরাধের বিচার করা যাবে।
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, সরকারের গৃহীত এসব সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করা এবং জনজীবনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে আশা করছে সরকার।