× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল প্রতারণায় জেল-জরিমানা

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব ও হাসনাত শাহীন

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩৮ এএম

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩৮ এএম

দেশের পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ করতে যাচ্ছে নতুন সরকার। গ্রাফিক্স: প্রথম আলো

দেশের পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ করতে যাচ্ছে নতুন সরকার। গ্রাফিক্স: প্রথম আলো

দেশের পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ করতে যাচ্ছে নতুন সরকার। মূল লক্ষ্য পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, জালিয়াতি, প্রক্সি পরীক্ষা এবং ডিজিটাল প্রতারণা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা। বিদ্যমান আইনে কিছু ফাঁকফোকর থাকায় অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে সরকার কঠোরভাবে নতুন আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস বা এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং উল্লেখযোগ্য অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ডিজিটাল মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়ানো বা গোপন তথ্য পাচারের ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকছে। 

আধুনিক প্রযুক্তি ও বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) অ্যাক্ট ২০২৬ কে আইনে রূপান্তর করছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় এটি নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে পারে। এটি চলতি সংসদ অধিবেশনে বিল আকারে পাস হতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি অফিস আংশিক বন্ধ রাখা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইন ক্লাস চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও মন্ত্রিসভায় আসতে পারে। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ম্যানুয়াল অসদুপায় অবলম্বনের চেয়ে ডিজিটাল নকল, প্রশ্নফাঁস ও অন্যান্য অসদুপায় এখন বেশি হয়। এ ছাড়াও আরও কিছু অত্যাধুনিক বিষয় যুক্ত করে আইনটি সংশোধন করা হচ্ছে। এ ছাড়াও ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে নকল প্রতিরোধে শাস্তির বিধান সংযুক্ত করা হচ্ছে। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে প্রণীত এবং ১৯৯২ সালে আংশিক সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইন বর্তমান বাস্তবতায় অনেকটাই অপ্রতুল হয়ে পড়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে নতুন ধরনের অপরাধ সৃষ্টি হলেও পুরনো আইনে সেগুলোর যথাযথ প্রতিকার ছিল না।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই পরীক্ষা ব্যবস্থাকে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিক্ষাবিদরা দীর্ঘদিন ধরে এই আইনের সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের মতে, আইনের সীমিত পরিধির কারণে অনেক অপরাধী আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছিল।

সূত্র বলছে, ২০০৯ থেকে ২০২১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পাবলিক পরীক্ষা আইন, আইসিটি আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মোট ২০০টি মামলা করা হয়, যার মধ্যে ৪৫টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এগুলোর মধ্যে সাজা হয়েছে মাত্র একটি মামলাতে। এসব মামলার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তদন্তে দুর্বলতা, ভুল আইনে মামলা ও অভিযোগপত্র দেওয়া, সাক্ষীকে হাজির না করায় আসামিরা অব্যাহতি বা খালাস পেয়েছেন। নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে পরীক্ষার্থীকে লিখিত কাগজ সরবরাহ ও মৌখিক বা যান্ত্রিক উপায়ে সাহায্য করার অভিযোগে ৩১টি মামলা, ভুয়া পরীক্ষার্থী হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অভিযোগে ছয়টি মামলা, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পাঁচটি মামলা এবং ভুয়া সার্টিফিকেট তৈরির অভিযোগে তিনটি মামলা রয়েছে।

আইন সংশোধন প্রসঙ্গে সাবেক সচিব ও প্রশাসন বিশেষজ্ঞ আনোয়ার ফারুক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আইনটি সংশোধন করা খুবই প্রয়োজন। ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশ্নফাঁসহ পরীক্ষা সংক্রান্ত নানা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষা বোর্ডগুলোর কর্তাদের নৈতিক সততার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। 

সূত্রমতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সপ্তাহে তিন দিন সরকারি অফিস বন্ধ রাখা এবং স্কুল-কলেজে সরাসরি ক্লাস বন্ধ রেখে অনলাইন ক্লাস চালু করা। এটি সরকারের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। 

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এই উদ্যোগ পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়ক হবে।

একজন জ্বালানি বিশ্লেষক বলেন, ‘সরকারি অফিস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ ব্যবহারের বড় অংশ। সেগুলো আংশিক বন্ধ রাখলে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় সম্ভব।’

স্কুল-কলেজে আবারও অনলাইন ক্লাস চালুর সম্ভাবনা নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। করোনা মহামারির সময় অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার অভিজ্ঞতা থাকলেও এখনও অনেক শিক্ষার্থী প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রধান শিক্ষক বলেন, অনলাইন ক্লাস চালু করা সম্ভব, তবে গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারনেট ও ডিভাইস নিশ্চিত করা জরুরি। না হলে শিক্ষায় বৈষম্য বাড়বে।

অন্যদিকে কিছু শিক্ষক মনে করেন, হাইব্রিড পদ্ধতি অর্থাৎ আংশিক অনলাইন ও আংশিক সরাসরি ক্লাস হতে পারে একটি কার্যকর সমাধান।

আজকের বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ একই সঙ্গে শিক্ষা, আইন এবং জ্বালানিÑ এই তিনটি খাতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এখানে নেওয়া হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনটি অনুমোদন পেলে দ্রুত সংসদে উত্থাপন করা হবে এবং প্রয়োজনে তা দ্রুত কার্যকর করা হবে।

সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তাই শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, সেই দিক বিবেচনায় রেখে অনলাইন প্লাটফর্মগুলো আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত: সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজন

নীতিনির্ধারণী এই উদ্যোগগুলোকে স্বাগত জানালেও বিশেষজ্ঞরা সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর জোর দিচ্ছেন। তাদের মতে, শুধু আইন প্রণয়ন বা অফিস বন্ধ করলেই হবে না, কার্যকর বাস্তবায়নই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন ২০২৬ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে জোর দিতে হবে, না হলে সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

সব মিলিয়ে সরকার একদিকে যেমন শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে চাইছে, অন্যদিকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। তবে এসব সিদ্ধান্ত কতটা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আজকের বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা