× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

উচ্চ মুনাফার ফাঁদে বিনিয়োগকারীরা: পাচার হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধার সিআইডির

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬ ১৫:৩১ পিএম

ঢাকার মালিবাগে সিআইডির সদরদপ্তরে সোমবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সিআইডির ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার।

ঢাকার মালিবাগে সিআইডির সদরদপ্তরে সোমবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সিআইডির ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার।

ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম ‘মেটাভার্স ফরেইন এক্সচেঞ্জ’ (এমটিএফই)–এর মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ উদ্ধার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ইউএসডিটি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ ৬২ হাজার ৩০৩ টাকা।

ঢাকার মালিবাগে সিআইডির সদরদপ্তরে সোমবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার।

প্রতারণার অভিনব কৌশল

সিআইডির ডিআইজি জানান, ২০২৩ সালের আগস্টে ‘MTFE Ponzi Scheme’–এর প্রতারণার শিকার হয়ে এক ভুক্তভোগী খিলগাঁও থানায় মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, ‘Metaverse Foreign Exchange (MTFE)’ নামের একটি বিনিয়োগ অ্যাপে প্রায় দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করে তিনি প্রতারণার শিকার হন।

তদন্তে সিআইডি নিশ্চিত হয় যে, এই প্ল্যাটফর্মটি ২০২২ সালের জুন থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে ফেসবুক ও ইউটিউবে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে দ্রুত ও উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা হতো।

ডিআইজি আরও জানান, ব্যবহারকারীদের জন্য একটি ভার্চুয়াল ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হতো, যেখানে জমাকৃত অর্থকে ডিজিটাল ডলার হিসেবে দেখানো হতো। তবে বাস্তবে এই ট্রেডিং কার্যক্রম ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। কৃত্রিমভাবে লাভ-ক্ষতির তথ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করা হতো। কিছু ক্ষেত্রে শুরুতে সামান্য অর্থ ফেরত দিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা হলেও ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্ল্যাটফর্মটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।

ক্রিপ্টো ট্র্যাকিং ও অর্থ উদ্ধার প্রক্রিয়া

তদন্তে জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টো ওয়ালেটে স্থানান্তর করে বিদেশে পাচার করা হয়। এর একটি অংশ প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ইউএসডিটি আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ OKX–এ সংরক্ষিত ছিল।

ব্লকচেইন বিশ্লেষণ টুল ‘Chainalysis Reactor’ ব্যবহার করে নিশ্চিত করা হয় যে, এই অর্থ এমটিএফই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। পরে OKX–এর লিগ্যাল টিমের সঙ্গে যোগাযোগের পর তারা আইনগত প্রক্রিয়ায় অর্থ ফেরত দিতে সম্মত হয়।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) উদ্যোগে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থ ফেরত আনা হয়। আদালতের অনুমোদন নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসি, মালিবাগ শাখায় ‘CID, Bangladesh Police’ নামে একটি সরকারি হিসাব খোলা হয়।

পরে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেডের সহযোগিতায় ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর করা হয়। প্রক্রিয়া শেষে ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৯৯৮ ইউএসডি সোনালী ব্যাংকের হিসাবে জমা হয়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ ৬২ হাজার ৩০৩ টাকা।

ডিআইজি জানান, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিভিন্ন সংস্থা এবং বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সহযোগিতা এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মামলার তিন বছরের কম সময়ে এই অর্থ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। বাকি অর্থ শনাক্ত ও উদ্ধারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা