× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পরিকল্পিত পদক্ষেপে বিসিকে ১৪ মিলিয়ন টন কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬ ১৯:২৪ পিএম

দেশের কার্বন নিঃসরণ নিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ ঢাকার একটি হোটেলে শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দেশের কার্বন নিঃসরণ নিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ ঢাকার একটি হোটেলে শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বাংলাদেশের জলবায়ু ও শিল্পায়নের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির মূলে থাকা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিলে বিসিক শিল্পনগরীগুলো থেকে বছরে ১৪ দশমিক ০৯ মিলিয়ন টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ।

ঢাকার একটি হোটেলে শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার এ ফলাফল তুলে ধরা হয়।

চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী পরিচালক এম জাকির হোসেন খানের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহযোগী গবেষক সাবরিন সুলতানা ও নাজিফা আলম তোরসা। 

গবেষণায় বলা হয়, এর মাধ্যমে কার্বন ক্রেডিটের সুবিধা ব্যবহার করে বছরে প্রায় শূন্য দশমিক ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব আয় করাও সম্ভব। কেননা চীন, ভারত, জার্মানি এবং ভিয়েতনামের সাফল্যকে মডেল হিসেবে গ্রহণ করা যায়।

তাদের অনুসরণ করে বাংলাদেশের এসএমই খাত বিকেন্দ্রীভূত রুফটপ সোলার প্যানেল ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের পরিচালনা ব্যয় ৩০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পারবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশগত মান বজায় রেখে বিশ্ববাজারে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। 

গবেষণায় এসএমই ক্লাস্টারগুলোর জ্বালানি ব্যবহার এবং নিঃসরণের একটি বিস্তারিত ও কারখানা-ভিত্তিক মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, বর্তমানে দেশের মোট শিল্প ইউনিটের ৯০ শতাংশের বেশি এসএমই খাতের অন্তর্ভুক্ত, যা শিল্প খাতের প্রায় ৮৫% শ্রমশক্তি নিয়োগ করে।

এটি জিডিপিতে অবদান রাখে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। তা সত্ত্বেও এই খাতটি এমন একটি জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল যার প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদ্যুৎ জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক। যা বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে উচ্চ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বাংলাদেশের এনডিসি ৩.০ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে জ্বালানি খাত থেকে ৬৯.৮৪  মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা শিল্প খাতের জ্বালানি রূপান্তরকে জরুরি করে তুলেছে।

গবেষণায় বিসিক শিল্পনগরীর চারটি উচ্চ-প্রভাবশালী খাতের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে: চামড়া, প্লাস্টিক উৎপাদন, প্লাস্টিক প্যাকেজিং এবং হালকা প্রকৌশল। এই চারটি খাত সম্মিলিতভাবে বছরে আনুমানিক ৪৬.৯৯  মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড কার্বন নিঃসরণ করে, যার মধ্যে কারিগরিভাবে বছরে ১৪.০৯৭  মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ কমানো সম্ভব।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়Ñ চামড়া শিল্পে ১৯-৩৩ শতাংশ নিঃসরণ কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকৌশলে ১৯-৩১ শতাংশ, প্যাকেজিংয়ে ১৫-২৮ শতাংশ এবং প্লাস্টিক উৎপাদনে সর্বোচ্চ ৩৩-৪৯ প্যাকেজিংয়ে ১৫-২৮  নিঃসরণ কমানো সম্ভব।

গবেষণায় শিল্পনগরী পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের রূপান্তরমূলক ক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তাতে বলা হয়, বিসিক শিল্পনগরীর মাত্র ১০ শতাংশ খালি জায়গা ব্যবহারের মাধ্যমে প্রায় ৫৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা সম্ভব। যা বছরে ৮২ হাজার ৯৬৮.৮৮ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে এবং বছরে ৫১ হাজার ৪৪০.৭১ টন কার্বন ডাই অক্সাইড কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করবে। এই জায়গার ব্যবহার ২০ শতাংশ উন্নীত করলে ১১৪ মেগাওয়াট সক্ষমতা থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৩৭.৭৬ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব, যা বছরে ১ লাখ ২ হাজার ৮৮১.৪১ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করবে।

গবেষণায় বলা হয়, একটি সাধারণ ২০ কিলোওয়াট রুফটপ সোলার সিস্টেম থেকে দিনে প্রায় ৭৯ ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব, যা ৪.২ বছরেই বিনিয়োগের টাকা তুলে আনতে পারে এবং কেপেক্স মডেলে ২৩ শতাংশ এবং ইন্টারনাল রেট অফ রিটার্ন নিশ্চিত করে। ওপেক্স মডেলে কোনো প্রাথমিক বিনিয়োগ ছাড়াই এসএমইগুলো সৌরবিদ্যুৎ গ্রহণ করতে পারে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ বিলের খরচ কমাতে পারে।

গবেষণার কাঠামোগত প্রভাবের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এম জাকির হোসেন খান বলেন, জ্বালানি সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে হলে বিএনপির নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা শুধু কাগজের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আমাদের এসএমই খাতের জন্য নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে হবে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের মূল চালিকাশক্তি। 

তিনি বলেন, বর্তমান সংকটে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং জ্বালানি বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে এসএমই খাতের জন্য জ্বালানি সার্বভৌমত্ব কেবল একটি জলবায়ু ইস্যু নয়, বরং এটি একটি অর্থনৈতিক টিকে থাকার কৌশল। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা