মজুমদার ইমরান
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬ ০৯:৫৬ এএম
তারেক রহমান। ফাইল ফটো
আগামী সোমবার জেলা পরিষদের প্রশাসকদের ঢাকায় ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি বিএনপি সরকার সারা দেশে জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। এই নিয়োগের পর প্রথমবারের মতো তারেক রহমান সারা দেশে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সঙ্গে আগামী সোমবার বৈঠক করবেন বলে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন একাধিক জেলা পরিষদের প্রশাসক।
কয়েকজন প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ঘিরে তাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে তারেক রহমান গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয় ও নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়েও এখন থেকে রাষ্ট্রীয় কাজের ফাঁকে সময়-সুযোমতো বসবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, জেলা পরিষদ প্রশাসকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে উন্নয়ন, জবাবদিহিতা ও তৃণমূল শক্তিশালীকরণের ওপর জোর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের যে সীমাবদ্ধতাগুলো রয়েছে, সেগুলোও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন তারা।
সাম্প্রতিক সময়ে জেলা পরিষদগুলোকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাস্তবায়নে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নানা ক্ষেত্রে সমন্বয়ের ঘাটতি, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে সরাসরি প্রশাসকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে।
জানা গেছে, তারেক রহমান স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে চান ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণে জেলা পরিষদকে আরও ক্ষমতাবান ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চান। এই বৈঠক থেকে বেশকিছু দিকনির্দেশনা আশা করছেন জেলা পরিষদের প্রশাসকরা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ শনিবার প্রথমবার নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে যাবেন তারেক রহমান। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ কথা জানিয়েছেন। তবে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কখন যাবেন, সেই সময়ের কথা তিনি জানাননি।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রমনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভা শেষে বাসভবনে ফেরার সময় মঞ্চ থেকে নামতে নামতে তিনি মিলনায়তনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নয়াপল্টনে অফিস করার কথা জানান।
এদিন প্রধানমন্ত্রী যখন মঞ্চ ছেড়ে নামছিলেন, তখন নেতাকর্মীরা পুরো মিলনায়তন স্লোগানে স্লোগানে সরগরম করে তোলেন। প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে হাস্যোজ্জ্বল কণ্ঠে বলতে থাকেন, ‘আগামীকাল নয়াপল্টন অফিসে যাব। আমি তোমাদের দেখতে চাই’।