প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬ ১৪:৫২ পিএম
আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬ ১৫:১৮ পিএম
জাতীয় প্যারেড ময়দানে দেড় যুগ পর স্বাধীনতা দিবসে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজে অংশ নেয় সশস্ত্র বাহিনী। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
দীর্ঘ ১৮ বছর পর মহান স্বাধীনতা দিবসে ঢাকার আগারগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড ময়দানে অনুষ্ঠিত হলো সম্মিলিত বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। ময়দানের অভিবাদন মঞ্চে দাঁড়িয়ে সালাম গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
এর আগে সর্বশেষ ২০০৮ সালের স্বাধীনতা দিবসে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিজয় দিবসে নিয়মিত প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।
এমনকি ২৪-এর গণ অভ্যুত্থার-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এ আয়োজন করা হয়নি।
এবার প্যারেডের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে। এরপর সকাল ১০টার দিকে মিলিটারি পুলিশের সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রাসহ প্যারেড ময়দানে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি।
তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী।
এর আগে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্যারেড ময়দানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও দেশি-বিদেশি অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর খোলা জিপে চড়ে প্যারেড পরিদর্শন করেন তিনি।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্যারেড অধিনায়ক মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক এবং বাদ্যদল ‘জন্ম আমার ধন্য হলো’ গানের সুর পরিবেশন করে।
প্রায় ১৫ মিনিট প্যারেড পরিদর্শন শেষে অধিনায়ক ঘোড়ায় আরোহণ করে রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান এবং কুচকাওয়াজ শেষের অনুমতি প্রার্থনা করেন।
এরপর একে একে বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট রাষ্ট্রপতিকে সালাম জানাতে অগ্রসর হয়।
বাহিনীগুলোর শৌর্য-শৃঙ্খলা প্রদর্শন
মার্চপাস্টের শুরুতে পতাকাবাহী তিনটি দল অংশ নেয়। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট, সাজোয়া রেজিমেন্ট, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইনফ্যান্টারি, আর্টিলারি, এয়ার ডিফেন্স, ইঞ্জিনিয়ার্স, সিগন্যালস ও সার্ভিসেস কন্টিনজেন্ট অংশ নেয়।
জাতীয় পতাকাবাহী দল অগ্রসর হওয়ার সময় গ্যালারিতে উপস্থিত সদস্যরা দাঁড়িয়ে সম্মান জানান।
পরে প্যারাকমান্ডো, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, জাতীয় ক্যাডেট কোর, কারা পুলিশ, সম্মিলিত নারী ও আধুনিক ইনফ্যান্ট্রি কন্টিনজেন্ট মার্চপাস্টে অংশ নেয়।
ডগ স্কোয়াড ও অশ্বারোহী বাহিনীর পর খোলা গাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের কন্টিনজেন্ট অগ্রসর হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে।
আকাশে বিমান-হেলিকাপ্টার ও ভূমিতে ট্যাঙ্ক
কুচকাওয়াজের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্যারাট্রুপারদের প্রদর্শনী। প্রায় ১০ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে ২৬ জন প্যারাট্রুপার জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন বাহিনীর পতাকা নিয়ে অবতরণ করেন।
এ সময় আকাশে উড়ে যায় সেনাবাহিনীর বিমান। পর্যায়ক্রমে সেনা, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, র্যাব ও নৌবাহিনীর বিমান ও হেলিকপ্টার উড্ডয়ন প্রদর্শন করে। মাটিতে বিভিন্ন বাহিনীর যান্ত্রিক বহর—ট্যাংক, কামানসহ আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়।
এরপর বিমানবাহিনীর ‘বাংলার আকাশ রাখিব মুক্ত’ প্রতিপাদ্যে অ্যারোবেটিক প্রদর্শনী শুরু হয়।
পাঁচটি এফ-সেভেন যুদ্ধবিমান রঙিন ধোঁয়া ছড়িয়ে আকাশে প্রদর্শনী করে। পরে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ‘ফ্লাইং স্যালুট’, টার্ন পারফরম্যান্স ও ‘ভিক্টোরি রোল’ প্রদর্শন করে আকাশে মিলিয়ে যায়।
কুচকাওয়াজ শেষ হয় বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে। এরপর রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। দুপুর ১২টা ৬ মিনিটে তার গাড়িবহর প্যারেড ময়দান ত্যাগ করে।
২০০৮ সালের পর ১৮ বছর পর স্বাধীনতা দিবসে এই আয়োজন ফিরে এলো। বিএনপি সরকারের উদ্যোগে রমজানের শুরু থেকে প্রস্তুতি নিয়ে এ জাঁকজমকপূর্ণ কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়।