ইউএনবি
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৯:২২ পিএম
সচিবালয়ে বুধবার সরকারের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি) ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
পেট্রোল পাম্পের মালিকসহ কেউ তেল মজুত করে লাভবান হতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি) ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, আমি পাম্প মালিকদের উদ্দেশে বলতে চাই, মজুত করার যদি প্রবণতা কারও থাকে, তারা মনে করছেন যে যেকোনো মুহূর্তে দাম বেড়ে যাবে। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না। সুতরাং এই মজুত করে রাখার প্রবণতা তাদের জন্য লাভজনক হবে না।
সচিবালয়ে বুধবার সরকারের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে অল্প সময়ের মধ্যে আমরা একটি বৈশ্বিক সংকটে পড়েছি, এমনকি ধনী দেশগুলোও এই চাপের মধ্যে রয়েছে”।
আতঙ্কে বেশি করে জ্বালানি কেনা ও মজুদের প্রবণতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এখন সবার দায়িত্ব মানুষকে বোঝানো—প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা যেন না করা হয়। পাম্প পর্যায়ে কেউ কেউ মজুদ করার চেষ্টা করছেন, সরকার সেগুলো নজরে রাখছে”।
জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেন উপদেষ্টা বলেন, “যদি একদিন সকালে সবাই ব্যাংকে গিয়ে একসঙ্গে সব টাকা তুলতে চান, তাহলে ব্যাংক ধসে পড়বে। কারণ ব্যাংক ধরে নেয়, সবাই একসঙ্গে টাকা তুলবে না। একইভাবে জ্বালানির ক্ষেত্রেও সরকার নির্দিষ্ট পরিমাণ মজুত ও সরবরাহ চেইন বজায় রাখে।
“প্যানিক বায়িংয়ের বিষয়টি বাস্তব। আমরা যুদ্ধের খবর শুনছি, পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই অনেকেই শুধু ট্যাঙ্ক ফুল করছেন না, অতিরিক্ত মজুত করার চেষ্টাও করছেন”।
ঈদের আগে জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, “যে পরিমাণ তেল কয়েক দিন চলার কথা ছিল, তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। এটা মূলত সরকারের অব্যবস্থাপনা নয়, বরং মানুষের ভীতি ও অসচেতনতার ফল।
“বিশেষ করে বাইক রাইডারদের মতো যাদের জীবিকা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের উদ্বেগটা বাস্তব। কিন্তু সবাই মিলে সচেতন না হলে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে”।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “সরকার চাইলে অভ্যন্তরীণভাবে জ্বালানির দাম বাড়াতে পারত। আমরা এখন বেশি দামে জ্বালানি কিনছি। নতুন যে সরবরাহ আসবে, তার মূল্য আরও বেশি হবে। কিন্তু দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপের কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। এই অবস্থায় জ্বালানির দাম বাড়ালে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যেত।
“সেই কারণে সরকার এখনো দাম বাড়ানোর পথে যায়নি। আমরা মনে করি, এই পরিস্থিতিতে মানুষকে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন”।