বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৪:৪৯ পিএম
আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৪:৫২ পিএম
সচিবালয়ের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সরকারের একমাস পূর্তি উপলক্ষে বুধবার প্রেস ব্রিফিং করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: পিআইডি
দেশের প্রতিটি পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে ধাপে ধাপে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা, অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধ—প্রতিটি খাতে সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার একটি সুসংগঠিত উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে।
সচিবালয়ের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বুধবার আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং সচিব মাহবুবা ফারজানা।
পাইলট প্রকল্পে ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে ৩৭ হাজার পরিবার
মন্ত্রী জানান, সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী দেশে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারের নারী প্রধানদের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্পের আওতায় ৩৭ হাজারের বেশি পরিবার এই কার্ড পেয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে মাসিক আড়াই হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব পরিবারকে এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ধর্মীয় সেবকদের কল্যাণে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং গির্জার যাজকদের জন্য সম্মানী ভাতা চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার ধর্মীয় সেবক এই সুবিধা পাচ্ছেন এবং আগামী চার অর্থবছরের মধ্যে দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষক কার্ড ও অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা
কৃষি খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ৮টি বিভাগের ১১টি উপজেলায় ২১ হাজারের বেশি কৃষকের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ শুরু হবে।
এর মাধ্যমে কৃষকরা বছরে আড়াই হাজার টাকা প্রণোদনা পাবেন।
এর পাশাপাশি সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এরই মধ্যে ৫৪টি জেলায় এই কাজ শুরু হয়েছে, যা কৃষি উৎপাদন ও পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জনকল্যাণে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনা
অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংসদ সদস্যরা ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি ও প্লট সুবিধা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে ভিআইপি প্রোটোকল কমিয়ে সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির চাপ থাকলেও আপাতত দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই এবং জনগণকে গুজব বা অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্য খাতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু এবং এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ৮০ শতাংশই নারী হবে।
পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে চাঁদাবাজি দমন এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নারী যাত্রীদের জন্য ‘পিঙ্ক বাস’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে ঈদের আগে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এতে শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।
এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ঋণ সুবিধা সহজ করা হয়েছে।
উচ্চশিক্ষার জন্য ব্যাংক সলভেন্সির বিকল্প হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদানের ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
সার্বিকভাবে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সরকার একটি সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, জনগণের সহযোগিতায় এসব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।