কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৩:০৪ পিএম
ঢাকার কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে বুধবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার বাস-ট্রেন সংঘর্ষের কারণ জানান র্যাব-১১-এর উপ-অধিনায়ক মো. নাঈম উল হক।
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় ভয়াবহ বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জনের প্রাণহানির ঘটনায় দায়িত্বে থাকা গেটম্যানদের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে র্যাব।
র্যাব জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বে থাকা দুই গেটম্যানের কেউই ঘটনাস্থলে ছিলেন না। এমনকি দুর্ঘটনার পর তারা পালিয়ে যান।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত গেটম্যান মো. হেলালকে (৪১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঢাকার কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে বুধবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১১-এর উপ-অধিনায়ক মো. নাঈম উল হক।
তিনি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শংকুচাইল এলাকা থেকে র্যাব-১১-এর একটি দল অভিযান চালিয়ে মো. হেলালকে গ্রেপ্তার করে। তিনি এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এক নম্বর আসামি।
এর আগে, ২২ মার্চ রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচে রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় যশোর থেকে লক্ষীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষ হয়।
এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন এবং অন্তত ২৫ জন আহত হন।
এ ঘটনায় নিহত যাত্রী সোহেল রানার খালা বাদী হয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যান—মো. হেলাল ও মেহেদী হাসানকে আসামি করা হয়।
র্যাব কর্মকর্তা মো. নাঈম উল হক বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত গেটম্যানরা রেলক্রসিংয়ের গেট বন্ধ করেননি। ঘটনার সময় তারা কেউই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাদের এই দায়িত্বে অবহেলার কারণেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
গ্রেপ্তার হওয়া মো. হেলালকে লাকসাম রেলওয়ে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। অন্য আসামি মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও র্যাব জানিয়েছে।