× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট

সম্মানী বিতরণে বৈষম্য

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব ও দীপক দেব

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬ ১২:২৫ পিএম

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬ ১২:২৬ পিএম

দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিভাগেই সম্মানী বণ্টনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বৈষম্যমূলক চিত্র দেখা গেছে। ছবি: বাসস

দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিভাগেই সম্মানী বণ্টনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বৈষম্যমূলক চিত্র দেখা গেছে। ছবি: বাসস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মাঠ প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকারী আচরণবিধি ম্যাজিস্ট্রেটদের সম্মানী বণ্টনে বড় ধরনের বৈষম্য ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিতর্ক এড়াতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মাধ্যমে অগ্রিম অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিভিন্ন জেলায় একই ধরনের দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের সম্মানীর পরিমাণে হেরফের ঘটেছে। একই দায়িত্ব পালন করেও কর্মকর্তাদের কেউ কেউ পেয়েছেন মাত্র কয়েক হাজার টাকা, আবার কেউ কেউ সম্মানী পেয়েছেন দুই লাখ টাকার বেশি। এই পরিস্থিতিতে বরাদ্দ বণ্টনের স্বচ্ছতা, নীতিমালা অনুসরণ এবং জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে।

মাঠ প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বরাদ্দের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি কাঠামো রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে জেলাভেদে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সম্মানী নির্ধারণে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত দায়িত্ব, কর্মঘণ্টা বা দায়িত্বের মেয়াদের সঙ্গে সম্মানীর পরিমাণের সঙ্গতি ঘটেনি। এমন গরমিলের কারণে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি অনিয়মের তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি উঠেছে। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ৩০ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ব্যয়ের জন্য আরও বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা। এই অর্থ সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি অনুযায়ী আয়কর ও ভ্যাট কর্তন করে বিল পরিশোধ করার ক্ষমতাও দেওয়া হয় তাদের। ইসির নথি অনুযায়ী, এই ব্যয় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘নির্বাচন’ শিরোনামের অর্থনৈতিক কোড থেকে নির্বাহ করার নির্দেশ রয়েছে।

বিভাগ একই, সম্মানী একেক রকম

দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিভাগেই সম্মানী বণ্টনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বৈষম্যমূলক চিত্র দেখা গেছে। কিশোরগঞ্জ জেলায় আচরণবিধি ম্যাজিস্ট্রেটদের সম্মানী দেওয়া হয়েছে ১৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে। অথচ একই দায়িত্বে গাজীপুর জেলায় কর্মকর্তারা পেয়েছেন ৪০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। 

আবার টাঙ্গাইল জেলায় সম্মানীর পরিমাণ আরও বেশি। সেখানে কর্মকর্তাদের ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর এলাকায় সম্মানীর ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। এখানে আচরণবিধি ম্যাজিস্ট্রেটদের কেউ পেয়েছেন মাত্র ১৫ হাজার টাকা, আবার কেউ পেয়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। একই বিভাগের ভেতরে এমন বড় পার্থক্য প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তাদের মতে, দায়িত্বের ধরন প্রায় একই হলেও সম্মানী নির্ধারণে অভিন্ন কোনো মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি।

সিলেট অঞ্চলে সর্বোচ্চ সম্মানী

সিলেট বিভাগের কিছু জেলায় সম্মানীর পরিমাণ দেশের অন্য অনেক জেলার তুলনায় বেশি। সুনামগঞ্জ জেলায় আচরণবিধি ম্যাজিস্ট্রেটদের ৪০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সম্মানী দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এটি সর্বোচ্চ সম্মানীগুলোর একটি।

হবিগঞ্জ জেলায় কর্মকর্তাদের এক লাখ টাকা সম্মানীর পাশাপাশি অতিরিক্ত ২০০ লিটার জ্বালানি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। একই অঞ্চলের অন্য কিছু জেলায় সম্মানী তুলনামূলক কম। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, কিসের ভিত্তিতে এই পার্থক্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ময়মনসিংহ বিভাগের বেশিরভাগ জেলায় কর্মকর্তাদের সম্মানী ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

রংপুর বিভাগে বিস্ময়কর বৈষম্য

রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতেও সম্মানী বণ্টনে বড় ধরনের পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। দিনাজপুর জেলায় আচরণবিধি ম্যাজিস্ট্রেটদের এক লাখ ২০ হাজার থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত সম্মানী দেওয়া হয়েছে। ঠাকুরগাঁও জেলায় তা কিছুটা কমÑ এক লাখ থেকে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা।

কিন্তু একই বিভাগের নীলফামারী জেলায় কর্মকর্তাদের সম্মানী দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। একই বিভাগের তিনটি জেলায় সম্মানীর এমন স্তরভেদ প্রশাসনিক মহলে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, বরাদ্দ বণ্টনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পরিবর্তে স্থানীয় সিদ্ধান্তই বেশি প্রভাব ফেলেছে।

রাজশাহী ও খুলনায় অনিয়মের অভিযোগ

রাজশাহী বিভাগের বেশিরভাগ জেলায় সম্মানীর পরিমাণ তুলনামূলক সীমিত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি ৭০ হাজার থেকে এব লাখ টাকার মধ্যে রয়েছে। তবে ব্যতিক্রম কুষ্টিয়া জেলা। সেখানে কর্মকর্তারা পেয়েছেন সর্বোচ্চ এক লাখ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত সম্মানী।

খুলনা বিভাগের পরিস্থিতি আরও জটিল। চুয়াডাঙ্গা জেলায় সম্মানীর পরিমাণ ৪০ হাজার থেকে এক লাখ ৬৬ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। এর পাশাপাশি কর্মকর্তাদের ৭০ লিটার জ্বালানি সুবিধাও দেওয়া হয়েছে। মেহেরপুর জেলায় সর্বোচ্চ সম্মানীÑ এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

অন্যদিকে যশোর জেলায় একই দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কেউ পেয়েছেন মাত্র পাঁচ হাজার টাকা, আবার কেউ পেয়েছেন ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এই বড় ব্যবধান প্রশাসনের ভেতরে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে অসম বণ্টন

বরিশাল বিভাগের কয়েকটি জেলায় এখনও আচরণবিধি ম্যাজিস্ট্রেটদের সম্মানী বিতরণ করা হয়নি। এতে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পটুয়াখালী জেলায় কর্মকর্তাদের এক লাখ থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সম্মানী দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পিরোজপুর ও বরগুনা জেলায় সম্মানীর পরিমাণ তুলনামূলক কম।

চট্টগ্রাম বিভাগেও একই ধরনের বৈষম্য দেখা গেছে। কক্সবাজার জেলায় আচরণবিধি ম্যাজিস্ট্রেটদের সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টাকা। বান্দরবান জেলায় তা এক লাখ ২০ হাজার টাকা। কিন্তু কুমিল্লা জেলায় কর্মকর্তাদের সম্মানী দেওয়া হয়েছে ২০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকার মধ্যে। প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, দায়িত্বের চাপ বা ভৌগোলিক বাস্তবতা কোনোটা দিয়েই এই বিশাল ব্যবধানকে যৌক্তিক হিসেবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। 

এখনও সম্মানী বিতরণ হয়নি কয়েক জেলায়

দেশের কয়েকটি জেলায় এখনও আচরণবিধি ম্যাজিস্ট্রেটদের সম্মানী বিতরণ করা হয়নি। এসব জেলার মধ্যে রয়েছেÑ মানিকগঞ্জ, সিলেট, জয়পুরহাট, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, সাতক্ষীরা, বরিশাল ও ভোলা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বরাদ্দ পাওয়া গেলেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও হিসাব যাচাইয়ে দেরি হওয়ায় সম্মানী বিতরণে দেরি হচ্ছে।

নীতিমালা নিয়ে প্রশ্ন

মাঠ প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, সম্মানী নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন নীতিমালা না থাকায় এই বৈষম্য তৈরি হয়েছে। একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবার জন্য একটি নির্দিষ্ট কাঠামো থাকা উচিত। বাস্তবে আমরা দেখছি জেলাভেদে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।’ আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তেই সম্মানীর পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে বণ্টনে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে।’

বরাদ্দ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত অগ্রিম অর্থের হিসাবও স্পষ্ট নয়। প্রকৃত দায়িত্ব অনুযায়ী সম্মানী বণ্টন করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। কিছু জেলায় কর্মকর্তাদের সম্মানী কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি বা অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কোনো অভিন্ন কাঠামো অনুসরণ করা হয়নি। এতে বরাদ্দ ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি

অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সম্মানী বণ্টনের ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট ও অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি। তাদের মতে, দায়িত্বের ধরন, কর্মঘণ্টা এবং দায়িত্ব পালনের সময়সীমা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট কাঠামো থাকলে এই বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন উঠত না। বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশের দাবিও করেছেন তারা। 

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গতকাল সোমবার বলেন, ‘এমন কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে অনিয়ম এড়াতে আমরা আগেই অর্থ বরাদ্দ করে দিয়েছিলাম। এই অবস্থায় যদি কোনো অনিয়মের তথ্য থাকে তাহলে রিপোর্ট করেন। অর্থ আত্মসাতের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে ইসি কাউকে ছাড় দেবে না।’ 

‘আপ্যায়ন’ খাতে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ

উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার কাছ থেকে অভিযোগ এসেছে, নির্বাচন দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্রেটদের আপ্যয়নের জন্য প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরে ওই ম্যাজিস্ট্রেটদের অনেককে আবার উপজেলা থেকে অন্যত্র দায়িত্বে পাঠানো হয়েছে। ফলে আপ্যায়নের নামে নেওয়া ওই অর্থের ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। 

স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থন যাচাইয়ে কোনো সম্মানী নেই

নির্বাচন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হলো স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক শতাংশ ভোটার সমর্থনের তালিকা যাচাই করা। এই কাজেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এই কাজের জন্য কোনো সম্মানী দেওয়া হয়নি। 

তদন্তের দাবি : মাঠ প্রশাসনের ভেতরে এসব অভিযোগ নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগ তদন্ত করতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।

যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন বিশ্লেষক ও সাবেক আমলা ড. আব্দুস সবুর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সময়ে আচরণবিধি বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনে যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দিনরাত কাজ করেন, তাদের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ যদি জেলা প্রশাসকদের স্তরে গিয়ে অস্বচ্ছভাবে বণ্টন হয়Ñ তাহলে সেটি কেবল প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, এটি সরাসরি জবাবদিহিতার সংকটের প্রতিফলন। সরকার বা নির্বাচন কমিশন যে উদ্দেশ্যে অর্থ বরাদ্দ দেয়, তা থেকে বিচ্যুতি হলে সেটি কার্যত সরকারি অর্থের অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।’

জানতে চাইলে সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ আবু আলম শহীদ খান বলেন, ‘যদি এই টাকা আত্মসাৎ বা নয়ছয় হয়ে থাকে, তাহলে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত। এই তদন্ত নির্বাচন কমিশন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় করতে পারে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। মোদ্দাকথা হলো, এই অর্থ যে খাতে এবং যেভাবে ব্যয় হওয়ার কথা ছিল, তা সেভাবে হয়েছে কি নাÑ এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি। প্রয়োজনে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

সরকারের প্রতিক্রিয়া

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “যে-ই এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন পরিচালনার অর্থ সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যয় করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখা হবে।”

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও আস্থা বজায় রাখতে মাঠ প্রশাসনের আর্থিক ব্যবস্থাপনাও জবাবদিহিমূলক হওয়া প্রয়োজন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা