প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬ ০০:১১ এএম
প্রতীকী ছবি।
দেশের আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিলম্বে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) ক্রয় এবং নিজস্ব প্রযুক্তিতে গবেষণার উদ্যোগ নিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার কমান্ড্যান্ট বরাবর এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে মিসাইল ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা জরুরি। প্রতিবছর জাতীয় বাজেটের বড় একটি অংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় হলেও বিদেশি শত্রুর সম্ভাব্য আকাশ হামলা মোকাবিলায় বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে বলা হয়, বর্তমানে প্রচলিত স্থল যুদ্ধের চেয়ে অত্যাধুনিক মিসাইল, যুদ্ধ বিমান ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে আকাশপথে আক্রমণ অনেক বেশি তীব্র হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। এ অবস্থায় কোনো বিদেশি রাষ্ট্র কর্তৃক ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হামলা হলে দেশের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের জীবনও চরম হুমকিতে পড়বে।
নোটিশে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা, প্রতিবেশী মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। প্রতিবেশী দেশ ভারত এরইমধ্যে রাশিয়ার অত্যাধুনিক এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনেছে এবং স্থাপন করেছে। আঞ্চলিক ভারসাম্য ও সামরিক প্রতিরোধ সক্ষমতা বজায় রাখতে বাংলাদেশেরও অবিলম্বে মার্কিন প্যাট্রিয়ট অথবা সমমানের উন্নত চীনা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে, বিদেশি প্রযুক্তির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা কমানো এবং ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরিতে দেশীয় গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করা কৌশলগতভাবে অপরিহার্য।
সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়েছে, নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। নির্ধারিত ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।