প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৬ ২১:০৯ পিএম
আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৬ ২৩:১১ পিএম
ছবি : বাসস
যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে শনিবার ঢাকাসহ সারাদেশে উদযাপিত হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। এক মাসের সিয়াম সাধনা ও ইবাদত-বন্দেগির পর দিনটি উদযাপনে মেতে ওঠে দেশের সর্বস্তরের মানুষ।
সকালে দেশের প্রধান প্রধান ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিশেষ মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। ঈদের দিন দেশের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হলেও তা উপেক্ষা করেই মুসল্লিরা নামাজে অংশ নেন।
জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত
ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি এবং ফিলিস্তিনসহ বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত মুসলিমদের মুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। এছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি
ঈদের নামাজ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মরহুম পিতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তার সঙ্গে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
বাণী ও শুভেচ্ছা
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
উৎসবের আমেজ ও খাবারের আয়োজন
ঈদকে ঘিরে শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। বড়দের পাশাপাশি ছোটরাও নতুন পোশাকে উৎসবে মেতে উঠেছে। নাড়ির টানে বিপুল সংখ্যক মানুষ গ্রামে ফেরায় ঢাকা এখন অনেকটাই ফাঁকা। প্রতিটি ঘরে সেমাই, পায়েস ও পোলাওসহ সুস্বাদু খাবারের আয়োজন উৎসবের আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া সরকারি হাসপাতাল, এতিমখানা, শিশু সদন ও কারাগারগুলোতে কয়েদি ও আবাসিকদের জন্য উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।
বিনোদনে মানুষের ঢল
ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দুপুরের পর থেকেই ঢাকার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমাতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। শাহবাগ, রমনা পার্ক, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, হাতিরঝিল, জাতীয় চিড়িয়াখানা এবং ধানমন্ডি লেকসহ দর্শনীয় স্থানগুলো এখন উৎসবমুখর মানুষের পদচারণায় মুখরিত।