মাশরুর মুর্শেদ, খুলনা
প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২৬ ১৪:৫২ পিএম
সুন্দরবন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নগরের যান্ত্রিকতা ছেড়ে ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির নির্মল সান্নিধ্য পেতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠেছে এই বনভূমি। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন আগে থেকেই সুন্দরবনে পর্যটকদের সমাগম বাড়তে শুরু করে। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস সুন্দরবন ভ্রমণের উপযুক্ত সময় হলেও ঈদের ছুটিতে বাড়তি পর্যটকদের চাপ সামলাতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে করমজল, হাড়বাড়িয়া, কটকা ও কচিখালীসহ প্রধান পর্যটন স্পটগুলো। নদী শান্ত থাকায় পর্যটকরা ছোট-বড় লঞ্চ ও ট্রলারে করে বনের গহীনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
সুন্দরবনের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। এখানে প্রায় ৩৫০ প্রজাতির বৃক্ষ, ২৫০ প্রজাতির পাখি এবং বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও চিত্রা হরিণের বিচরণ পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
খুলনা জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকার জানান, ঈদের সময় পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন, বন বিভাগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। বনভ্রমণে নির্ধারিত নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বন্যপ্রাণী ও বনসম্পদ রক্ষায় সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জে দায়িত্বরত প্রায় ৭৫০ জন বনরক্ষীর ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বন বিভাগ জানায়, বনরক্ষীরা সার্বক্ষণিক টহলের মাধ্যমে বনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। কোনো ধরনের অনিয়ম বা শিকারিদের অপতৎপরতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, অধিক পর্যটকের চাপে সুন্দরবনের পরিবেশ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বন বিভাগ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, “পর্যটকদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত না হলে সুন্দরবনের নাজুক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়তে পারে। এজন্য পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, শব্দ ও প্লাস্টিক দূষণ রোধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে”।
বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, সুন্দরবনকে দূষণমুক্ত রাখতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শব্দ ও প্লাস্টিক দূষণ রোধে ট্যুর অপারেটরদের কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, পর্যটন ও সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। সঠিক পরিকল্পনা ও জনসচেতনতার মাধ্যমেই এই অমূল্য বনভূমিকে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষা করা সম্ভব। প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো এই ছুটি যেন বনের জন্য ক্ষতিকর না হয়, সেই দায়িত্ব পর্যটকসহ সংশ্লিষ্ট সবার।