প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২৬ ১৩:১১ পিএম
আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৬ ১৩:৫৫ পিএম
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে অবস্থিত সুরেশ্বর দরবার শরীফে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। ছবি প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দেশের নানা জেলার গ্রামগুলোতে শুক্রবার সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ, নওগাঁ, দিনাজপুর, ঝালকাঠি, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী, মাদারীপুর ও বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলায় মুসল্লিরা সকাল থেকেই জামাতে অংশ নিয়ে ধর্মীয় আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন।
এ সব জামাতে শতাধিক থেকে হাজার হাজার মুসল্লি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ী, চিলমারী, রৌমারী ও চর রাজিবপুরের ছয়টি গ্রামে সকাল ৯টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। হাজারের বেশি মুসল্লি নামাজে অংশগ্রহণ করেন।
নামাজে অংশগ্রহণ করা কয়েকজন মুসুল্লির সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তারা ইমাম আবু হানিফার মতাদর্শ অনুযায়ী বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে সেই অনুযায়ী ঈদ উদযাপন করে আসছেন।
ফুলবাড়ীর জেলে পাড়া আহলে হাদিস জামে মসজিদে পার্শ্ববর্তী গ্রামের প্রায় ৬০ জন মুসল্লি অংশ নেন।
পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সকাল ৯.৩০টায় ধানখালী ইউনিয়নের জাহাগারিয়া শাহ সুফী মমতাজিয়া দরবার শরীফ মাঠে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
চম্পাপুর, সাফাখালী, লালুয়া, ফুলতলী, পাঁচজুনিয়া ও বালিয়াতলীসহ পৌর শহরের নাইয়া পট্টিতেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
এই এলাকায় প্রায় ২০০ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন হয়ে আসছে। নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে সুরেশ্বর দরবার শরীফে সকাল ৯.৪০ মিনিটে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
নারীদের জন্য পৃথক জামাতের ব্যবস্থা থাকায় তারা শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায় করেন।
ফুলপুর উপজেলার রামভ্রপুর ও হাটপাগলা দক্ষিণপাড়া মসজিদে পৃথক জামাতে গ্রামের সহস্রাধিক মুসল্লি অংশ নেন।
নওগাঁ
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভার কলোনিপাড়ায় সকাল ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
নামাজে প্রায় ১০০ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।
মুসল্লিদের কয়েকজন জানান, ২০০৫ সাল থেকে এ অঞ্চলে প্রতিবছরের মতো ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
দিনাজপুর
দিনাজপুরে শহরের চারুবাবুর মোড়, নিউটাউন, ফুলতলা, ইসলামবাগসহ বিভিন্ন মসজিদে সকাল ৮টায় আগাম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিটি জামাতে প্রায় দুই শতাধিক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।
বিরামপুর উপজেলার জোতবানি ও বিনাইল ইউনিয়নের মুসল্লিরাও সকাল ৮টায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নামাজ আদায় করেন।
ঝালকাঠি ও বরিশাল
ঝালকাঠির রাজাপুরে ডহরশংকর এলাকার দারুস-সুন্নাহ ঈদগাহ মাঠে সকাল সোয়া ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
বরিশাল নগরীসহ জেলার পাঁচ উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার পরিবার আগাম ঈদ উদযাপন করে।
শহরের সাগরদীর তাজকাঠী মিয়াবাড়ী জাহাগিরিয়া শাহসুফি মমতাজিয়া মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়ায় সকাল ৭টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নোয়াগাঁও তালিমুল কুরআন মাদরাসা মাঠে সকাল ৯.৩০টায় অন্য একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা মনে করেন, একই দিনে ঈদ উদযাপন করাটাই যৌক্তিক।
রাজশাহী
রাজশাহীর পুঠিয়ায় কৃষ্ণপুর গ্রামের জামে মসজিদের ছাদে সকাল ৮টায় প্রায় ২৩ মুসলিম ঈদের নামাজ আদায় করেন।
মাদারীপুর ও বগুড়া
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেন
বগুড়ার গাবতলী, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলায় পৃথক তিনটি স্থানে জামাত অনুষ্ঠিত হয়, নারী ও শিশুদের উপস্থিতিও চোখে পড়ে।
সকল স্থানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়েছে। মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সব ঈদের জামাতে অংশ নেওয়া ইমামরা জানান, বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে সেই অনুযায়ী রোজা রাখা এবং ঈদ উদযাপন করা উচিত।
এটি ধর্মীয় বিশ্বাস ও সারা বিশ্বের মুসলমানদের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের একটি প্রচলিত ধারা হিসেবে প্রতিটি অঞ্চলে পালিত হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন।
তারা মনে করেন, দেশের বিভিন্ন জেলার গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদ উদযাপনের মাধ্যমে ধর্মীয় আনন্দ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন উদযাপিত হয়েছে।
আঞ্চলিক প্রকিবেদকদের সহায়তায় প্রতিদিনের বাংলাদেশ ডেস্ক থেকে প্রতিবেদনটি সম্পন্ন করা হয়েছে।