প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬ ১৫:০৪ পিএম
ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে প্রধান জামাত।
পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার তথ্য পর্যালোচনা করে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। এ ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাঠানো চাঁদ দেখার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখবে কমিটি।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। এদিকে ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঈদের জামাত সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিস্তারিত অফিস ও প্রতিবেদকদের পাঠানো খবরÑ
ঢাকা
ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে প্রধান জামাত। এতে নামাজ আদায় করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা প্রধান জামাতে অংশ নেবেন। কেন্দ্রীয় ঈদ জামাতের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। তারা জামাত পরিচালনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং মুসল্লিদের সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের প্রায় ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার এলাকায় প্যান্ডেল স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিআইপি) জন্য প্রায় ৮০ জনের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সাধারণ মুসল্লিদের জন্য প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ এবং প্রায় সাড়ে তিন হাজার নারীর নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশের জন্য মোট চারটি ফটক রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ভিআইপিদের জন্য একটি এবং সাধারণ মুসল্লিদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ নির্ধারণ করা হয়েছে। নামাজ শেষে মুসল্লিদের নিরাপদে বের হয়ে যাওয়ার জন্য সাতটি বহির্গমন ফটকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঈদগাহ ময়দানে মোট ১২১টি কাতারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে ভিআইপিদের জন্য একটি কাতার, সাধারণ পুরুষ মুসল্লিদের জন্য ৬৫টি বড় কাতার এবং নারীদের জন্য ৫০টি ছোট কাতার থাকবে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঈদগাহে অজুখানার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ১৪০ জন অজু করতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষদের জন্য প্রায় ১১৩ জন এবং নারীদের জন্য প্রায় ২৭ জনের ব্যবস্থা রয়েছে।
এ ছাড়া ঈদগাহ ময়দানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, পর্যাপ্ত ফ্যান ও আলোর ব্যবস্থা, অজুখানা, নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ও নামাজের স্থান, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, ভিআইপি কাতারে জায়নামাজ, ভ্রাম্যমাণ টয়লেট এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার সুবিধা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন তিনটি প্রবেশফটক নির্মাণ, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি নিরোধক শামিয়ানা, নামাজের জন্য কার্পেট বিছানো এবং ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
যদি আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বা বৃষ্টির কারণে জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় সম্ভব না হলে, বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে বৃষ্টি হলেও যাতে নামাজ আদায়ে বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য প্যান্ডেলে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ সিটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম।
অন্যদিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে কেন্দ্রীয় ঈদ জামাতের আয়োজন করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ডিএনসিসির উদ্যোগে আগারগাঁওয়ে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র সংলগ্ন পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
এ প্রসঙ্গে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, নগরবাসীর জন্য সুশৃঙ্খল ও সুন্দর পরিবেশে ঈদের জামাত আয়োজনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ঈদগাহে প্রবেশের জন্য তিনটি গেট রাখা হবে এবং নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথের ব্যবস্থা থাকবে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে অজুর ব্যবস্থাও রাখা হবে। আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) দুই প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করবে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগ, ডিপিডিসি ও ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবে।
চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ ঈদগাহ ময়দান সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। গতকাল বুধবার জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে তিনি জানান, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গত সাত দিন ধরে চসিকের উদ্যোগে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মহান মুসলিম উম্মাহ যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদগাহে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও ভ্রমণ সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রংপুর
রংপুরে ঈদের প্রধান জামাত রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল বুধবার রংপুর জেলা তথ্য অফিস জানিয়েছে, ঈদের প্রধান জামাতকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন। ঈদের ফিতরের প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন কেরামতিয়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা বায়েজীদ হোসাইন। ঈদের দিন আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকলে প্রধান জামাত রংপুর জেলা মডেল মসজিদে দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হবে।
বরিশাল
বরিশাল নগরের হেমায়েতউদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। নগরের প্রধান ঈদের জামাতের জন্য কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন। পাশাপাশি প্রথমবারে মতো এবারে মেয়েদের নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
খুলনা
খুলনা মহানগরীতে প্রধান জামাতসহ একাধিক ঈদের জামাত আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঈদ উদযাপনে জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন নিয়েছে বিস্তৃত প্রস্তুতি। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায় খুলনা সার্কিট হাউস ময়দান। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৮টায় খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
রাজশাহী
ঐতিহ্যবাহী হজরত শাহ্ মখদুম (রহ.) কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে রাজশাহীর প্রধান ঈদের জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের জন্য ঈদগাহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নসহ সমতলকরণ করতে কাজ চলছে পুরোদমে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে অজুখানা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং অস্থায়ী টয়লেট স্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি টাঙানো হচ্ছে সামিয়ানা।
কিশোরগঞ্জ
ঈদের জামাতকে সামনে রেখে দেশের বৃহত্তম ঈদগাহ ময়দান কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টায়। আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তায় চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এবারও থাকছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মোতায়েন থাকবে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি।
বগুড়া
বগুড়ায় ১ হাজার ৬৬২টি ঈদগাহ ময়দান এবং মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে খোলা জামাত ১ হাজার ৩৯৬টি, মসজিদে ২৬৩টি এবং সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে তিনটি। শহরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায় সূত্রাপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে কিংবা বৃষ্টি হলে একই সময়ে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে স্টেশন সড়কের বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে।
দিনাজপুর
দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ ময়দানে সকাল ৯টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের প্রধান জামাতের নামাজের ইমামতি করবেন মাওলানা মাহফুজুর রহমান। ঈদগাহজুড়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। ঈদের দিন সকাল থেকে মুসল্লিরা মাঠের প্রবেশ পথ দিয়ে আসবেন। বসানো হচ্ছে অসংখ্য মাইক। অজু করতে যেন অসুবিধা না হয় এজন্য একাধিক অজুখানা এবং পানির ব্যবস্থা রাখা হবে।