যাত্রী কল্যাণ সমিতির অভিযোগ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬ ১৯:১১ পিএম
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি লোগো। ফাইল ছবি
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সড়কপথে যাত্রী পরিবহনে ভয়াবহ ভাড়া নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দাবি, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বাস ও মিনিবাসে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এখন চরমে পৌঁছেছে। সংগঠনটির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এবারের ঈদযাত্রায় শুধু বাস খাতেই যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১৪৮ কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়া হতে পারে।
সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বুধবার সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই তথ্য জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকারের তদারকি কার্যক্রম দুর্বল হওয়ায় পরিবহন খাতে এমন নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশের আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার প্রায় ৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাসে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে। গত ১৪ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন রুটে যাত্রী চলাচল, অগ্রিম টিকিট বিক্রি এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
তাদের তথ্য বলছে, ঢাকা থেকে বিভিন্ন রুটে ভাড়া দ্বিগুণ বা তারও বেশি নেওয়া হচ্ছে। যেমন—ঢাকা-পাবনা রুটে ৫৫০–৬০০ টাকার ভাড়া বেড়ে ১২০০ টাকা, ঢাকা-রংপুর রুটে ৫০০ টাকার ভাড়া ১৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, খুলনাসহ অন্যান্য রুটেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। শুধু দূরপাল্লা নয়, ঢাকার সিটি সার্ভিস বাসেও বুধবার থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, কিছু পরিবহন কোম্পানি কৌশলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। নির্দিষ্ট গন্তব্যের টিকিট নেই—এমন অজুহাতে যাত্রীদের দূরের গন্তব্যের টিকিট কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী যাত্রীদের সাতকানিয়া বা কক্সবাজার অঞ্চলের টিকিট নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। একইভাবে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের ক্ষেত্রেও রংপুর বা নওগাঁ পর্যন্ত টিকিট কাটতে হচ্ছে।
পর্যবেক্ষণে চালক ও চালক সহকারীদের সঙ্গে কথা বলে সংগঠনটি জানায়, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার মধ্যে তাদের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বাস্তবে তা অনেক ক্ষেত্রে দেওয়া হয় না। অন্যদিকে পরিবহন মালিকেরা বলছেন, জ্বালানি মূল্য, চাঁদাবাজি, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়সহ নানা কারণে তাদের খরচ বেড়েছে। তবে যাত্রী সংগঠনের দাবি, এসব অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে বাড়তি মুনাফা নেওয়া হচ্ছে।
সমিতির হিসাবে, এবারের ঈদে প্রায় ৪০ লাখ যাত্রী দূরপাল্লার বাসে যাতায়াত করবেন। এর মধ্যে ৮৭ শতাংশ যাত্রীকে গড়ে ৩৫০ টাকা করে অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, সিটি বাসে প্রায় ৬০ লাখ যাত্রীর মধ্যে একই হারে ৫০ টাকা করে অতিরিক্ত নেওয়া হলে আরও ২৬ কোটি টাকার বেশি আদায় হবে। সব মিলিয়ে মোট অতিরিক্ত আদায় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা।
সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের ভাড়া নৈরাজ্যের ফলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি, সড়ক দুর্ঘটনা এবং সামগ্রিক বিশৃঙ্খলা বাড়তে পারে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি সুপারিশ দিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। এর মধ্যে রয়েছে—গণপরিবহনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় চালু করা। নগদ লেনদেন কমানো, সড়ক-মহাসড়কে সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো ও আইন প্রয়োগ জোরদার করা। এছাড়াও মনিটরিং ব্যবস্থায় যাত্রী প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা। সংগঠনটির মতে, কার্যকর তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমবে না।