আরমান খান, রাঙামাটি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬ ১৯:২০ পিএম
রাঙামাটির পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
আসন্ন ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিকে সামনে রেখে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক পর্যটক বরণে প্রস্তুত। ইতোমধ্যে এখানকার হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে ব্যাপক আগাম বুকিং সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিসোর্ট মালিকরা।
সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির তথ্যমতে, বর্তমানে সাজেকে ১১৮টি রিসোর্ট-কটেজ চালু রয়েছে। এর মধ্যে ঈদের ছুটিকে ঘিরে প্রায় শতভাগ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। গত বছর অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৪টি কটেজের মধ্যে ২০টি পুনর্নির্মাণ করে চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এসব কটেজে প্রায় ৩ হাজার পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা বলেন, “মার্চের ২২ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত প্রায় সব রিসোর্টই বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের সেবা দিতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত”।
অন্যদিকে রাঙামাটির হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, তাদের ৮৭টি কক্ষের মধ্যে অধিকাংশই বুকিং হয়ে গেছে। তবে হঠাৎ আসা পর্যটকদের জন্য কিছু কক্ষ খালি রাখা হয়েছে।
ঈদকে সামনে রেখে রাঙামাটির পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। জেলার প্রতীক ‘ঝুলন্ত সেতু’ নতুন করে রং করা হয়েছে। কাপ্তাই হ্রদে নৌভ্রমণের জন্য ট্যুরিস্ট বোটগুলো সংস্কার ও রং করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রিসোর্টগুলোতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ সাজসজ্জা।
কাপ্তাই হ্রদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পর্যটন শিল্পে এবার নতুন মাত্রা যোগ করেছে হাউজবোট। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এসব ভাসমান হোটেলে ইতোমধ্যে ঈদ উপলক্ষে বুকিং শুরু হয়েছে। হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম মিজান জানান, ঈদ পরবর্তী সময়ের বেশিরভাগ বুকিং ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে দ্বীপভিত্তিক রিসোর্টগুলো—মায়াবী দ্বীপ, রাঙাদ্বীপ, লেকভিউ আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে বেড়েছে পর্যটকদের আগ্রহ।
রাঙামাটি আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, “ঈদের ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় এবং দেশের পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় এবার রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক আসবেন বলে আশা করছি”।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশও প্রস্তুত রয়েছে। রাঙামাটি ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার নিহাদ আদনান তাইয়ান জানান, পর্যটন এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং নৌযানে লাইফ জ্যাকেট ও প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হচ্ছে।