মাসুদ রানা
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৬ এএম
১৯৭১ সালের ১৬ মার্চ বিক্ষোভ সভা, মিছিল আর স্লোগানে বাংলার প্রতিটি স্থান মুখরিত হয়।
১৯৭১ সালের ১৬ মার্চ বিক্ষোভ সভা, মিছিল আর স্লোগানে বাংলার প্রতিটি স্থান মুখরিত হয়। অসহযোগ আন্দোলন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনে অংশ নিতে বিভিন্ন সংগঠন রাজপথে নেমে আসে। বাংলাদেশের মুক্তি আন্দোলনে যোগ দেন দেশের আইনজীবী, লেখক, কবি, শিল্পী, চাকরিজীবীসহ দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলী এক বিবৃতিতে বিপ্লবী নেতা মণি সিংহসহ সব রাজবন্দির মুক্তি, সামরিক আইনে দায়ের সব রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়ার জন্য শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে আহ্বান জানায়। হাইকোর্টের আইনজীবীরা এক সভায় জানায়, “সামরিক আইন তুলে নিয়ে পরিষদের অধিবেশনের আগেই জনপ্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আইনগত কোনো বাধা নেই।”
১৫ মার্চ থেকেই পূর্ব বাংলার কেন্দ্রীয় ও প্রদেশিক সরকারের সমগ্র শাসন পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগারিষ্ঠ দলের নির্দেশে চলতে থাকে। শেখ মুজিবের নির্দেশক্রমে ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংক কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত রাজস্ব এই দিন থেকে গ্রহণ করতে শুরু করে। এই ট্যাক্সের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রাণাধীন আবগারি ও বিক্রয় কর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
১৬ মার্চ বেলা ১১টায় প্রেসিডেন্ট ভবনে (বর্তমান সুগন্ধা) পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগারিষ্ঠ দলের প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের আলোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভবনের সামনে ইপিআর বাহিনী মোতায়েন ছিল। কিন্তু বাঙালি ইপিআরদের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না। সামরিক কর্তৃপক্ষ তাদের হাত থেকে অস্ত্র তুলে নেয়। দীর্ঘ বাঁশের লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হয় বাঙালি ইপিআররা।
শেখ মুজিবুর রহমান কালো পতাকা শোভিত একটি মাজদা গাড়িতে করে প্রেসিডেন্ট ভবনে যান। গাড়ির উইন্ড স্ক্রিনে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা ও আওয়ামী লীগ দলীয় প্রতীক নৌকা উৎকীর্ণ ছিল।
প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে ছাত্র-জনতা একত্রিত হয়ে ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি দিতে থাকে। জনতার একাংশের সাথে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের ভিড় ছিল।
প্রেসিডেন্ট ভবনে জেনারেল ইয়াহিয়ার সাথে আড়াই ঘণ্টা আলোচনা শেষে শেখ মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, “প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অন্যান্য আলোচনা হয়েছে, আলোচনা চলছে, আরও চলবে।”
পাকিস্তান থেকে বিমানযোগে পূর্ববঙ্গে সৈন্য আনা বন্ধ করতে ভারত সরকার তাদের আকাশসীমার ওপর দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান অভিমুখী সকল বিদেশি বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করে দেয়। সংবাদ সংস্থা এএফপি এক খবরে বলে, “পূর্ব পাকিস্তানের সৈন্য নিয়ে যাওয়া বন্ধ করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
বিভিন্ন জেলায় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, রংপুর, যশোর এলাকায় সামরিক বাহিনী অসহযোগ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়।