চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬ ১০:০৮ এএম
শাহ আমানত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে জেদ্দা, মদিনা, মাস্কটের ফ্লাইট পুরোপুরি স্বাভাবিক। ছবি: বাসস
চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যের ফ্লাইট আবারও সচল হতে শুরু করেছে। যুদ্ধের কারণে চলতি মাসের শুরুতে যেখানে শারজা, আবুধাবি, দুবাই, দোহা, জেদ্দা, কুয়েত বন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, সেখানে এখন আবুধাবি এবং কাতারের দোহা ছাড়া বাকি সব রুটে ফ্লাইট চলাচল করছে।
শাহ আমানত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল জানান, “বর্তমানে শাহ আমানত থেকে মধ্যপ্রাচ্যের আবুধাবি এবং দোহা রুটের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া বাকি সব রুটে ফ্লাইট চলাচল করছে। তবে দুবাই রুটে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখনও ফ্লাইট কম চলাচল করছে। দুবাই রুটে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন তিন থেকে চারটি করে ফ্লাইট চলাচল করত, সেখানে এখন দিনে একটা অথবা দুইটা করে চলাচল করছে।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার উত্তেজনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ এয়ারফিল্ড বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট চলালচ বন্ধ হয়ে যায়। যুদ্ধ শুরুর পর ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম দিন ৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। পরদিন ১ মার্চ ১৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এর মধ্যে অ্যারাইভাল ফ্লাইট ছিল ৯টি এবং ডিপার্চার ফ্লাইট ছিল ৫টি। এরপর ২ মার্চ ৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। ৩ মার্চ আরও ৭টি বাতিল করা হয়। ৪ মার্চ ১১টি, ৫ মার্চ ৯টি, ৬ মার্চ ১৪টি, ৭ মার্চ ১২টি, ৮ মার্চ ৫টি, ৯ মার্চ ৬টি এভাবে গত ১৫ দিনে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ১০৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
গত তিন-চারদিন ধরে ফ্লাইট বাতিলের হার দিন দিন কমছে। শাহ আমানত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে জেদ্দা, মদিনা, মাস্কটের ফ্লাইট পুরোপুরি স্বাভাবিক। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার অ্যারাবিয়া ও ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের শারজা, দুবাই থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দরের ফ্লাইটগুলো অনেকটা স্বাভাবিক হওয়া শুরু করেছে। তাই এখন প্রতিদিন ফ্লাইট বাতিলের হার কমছে।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর ৭ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ছিল। ৮ মার্চ থেকে শারজা এবং দুবাই রুটে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়। ওই দিন এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইট শারজা থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানতে আসে। এরপর এখান থেকে ফিরতি ফ্লাইটে শারজা গেছে। অন্যদিকে দুবাই থেকে ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইট শাহ আমনতে আসে। এরপর থেকে এখন শারজার ফ্লাইট অনেকটা স্বাভাবিক। সর্বশেষ গত শুক্রবার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে ৪টি। এ ছাড়া বাকি সব ফ্লাইট সচল ছিল। তার আগের দিন ১২ মার্চ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে মাত্র ৫টি।