মাসুদ রানা
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৯ এএম
১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ অসহযোগ আন্দোলন নতুন রূপ পায়। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ অসহযোগ আন্দোলন নতুন রূপ পায়। ১৪ মার্চ দেওয়া অসহযোগ আন্দোলনের ৩৫ দফা নির্দেশ কার্যকর হয়। এ সম্পর্কে তাজউদ্দীন আহমদ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘স্বাধীনতার দীর্ঘস্থায়ী যে ত্যাগ স্বীকার ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে তার জন্যও জনগণের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। হরতাল অব্যাহত থাকবে। যে সকল নির্দেশাবলি জারি করা হয়েছে তা মেনে চলতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল আন্দোলন এক নয়া পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। শেখ মুজিবুর রহমান যে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন শুরু করার আহ্বান জানিয়েছিলেন; তাতে জনসাধারণের নিরঙ্কুশ সাড়া পাওয়া গেছে।’
পূর্ববাংলার কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের সমগ্র শাসনব্যবস্থা পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগারিষ্ঠ দলের নির্দেশে চলতে থাকে। এই দিনে পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি, আধাসরকারি, বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।
১৫ মার্চ জেনারেল খাদেম হোসেন রাজা, জেনারেল হামিদ খান, জেনারেল খোদাদাদ খান, জেনারেল মিঠঠা খান, জেনারেল পীরজাদা, জেনারেল ওমর, এমএম আহমেদ, জিডব্লিউ চৌধুরী প্রমুখ মূল সামরিক চক্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান কঠোর সামরিক প্রহরায় ঢাকায় আসেন। ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক প্রশাসক জেনারেল টিক্কা খান বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান।
এই দিন থেকে পিআইএ বোয়িং এবং পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর সি-১৩০ বিমানগুলো নিয়মিতভাবে সাজসরঞ্জামসহ পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে ঢাকার বিমানবন্দরে আসতে থাকে। ঢাকা বিমানবন্দর মেশিনগান ও বিমানবিধ্বংসী কামানে সজ্জিত হয়ে যায়। যুদ্ধঘাঁটিতে পরিণত হয় বিমানবন্দর।
১১৫নং সামরিক বিধি জারি করে ১৫ মার্চ দেশরক্ষা বিভাগের অধীনস্থ বেসামরিক কর্মচারীদের কাজে যোগদানের নির্দেশ দিলে সব কর্মচারী বিদ্রোহ করে। স্বাধীন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বায়তুল মোকাররম চত্বরের জনসভায় ১১৫নং সামরিক বিধির তীব্র সমালোচনা করে। ছাত্রনেতারা বাংলাদেশ রক্ষার জন্য অস্ত্র হাতে নিতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
ছাত্র-জনতার জনসভায় আ স ম আবদুর রব ঘোষণা করেন, ‘বাংলাদেশ আজ স্বাধীন। আমাদের ওপর সামরিক বিধি জারি করার ক্ষমতা কারও নেই। বাংলাদেশের জনগণ একমাত্র শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশই মেনে চলবে।’ সভায় আবদুল কুদ্দুস মাখন বলেন, ‘বাংলাদেশে যদি কোনো আইন জারি করতে হয় শেখ মুজিবুর রহমানই তা করবে। সামরিক কর্তৃপক্ষ নয়।’
এদিন শেখ মুজিবুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এ বড় দুঃখজনক যে, কিছু অবিবেচক মানুষ সামরিক আইন বলে নির্দেশ জারি করে বেসামরিক কর্মচারীদের একাংশকে ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। কিন্তু এদেশের মানুষ সামরিক আইনের কাছে মাথানত না করার দৃঢ়তায় একাত্ম।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তির স্পৃহাকে স্তব্ধ করা যাবে না। আমাদের কেউ পরাভূত করতে পারবে না, কারণ প্রয়োজনে আমরা মরণ বরণ করতে প্রস্তুত।’
এই দিন পাকিস্তান মেডিকেল সমিতি পূর্বাঞ্চল শাখা ও পূর্ব পাকিস্তান সরকারি চিকিৎসক সমিতির যৌথ উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অসহযোগ আন্দোলনের পক্ষে একটি সভা হয়। সভায় চিকিৎসা সমিতি পূর্বাঞ্চল শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. সারোয়ার আলী বক্তব্য রাখেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী তাকে দেওয়া সিতারায়ে ইমতিয়াজ খেতাব বর্জন করেন এদিন।