প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬ ১৬:৫৩ পিএম
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে শনিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিপিএর সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) মতে দেশের প্রান্তিক পোলট্রি খামারিরা বড় কর্পোরেট ও সিন্ডিকেটের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের কারণে অস্থির। উৎপাদন খরচের তুলনায় ডিম ও মুরগির দাম কম থাকায় তারা দীর্ঘ ৭ মাস ধরে লোকসানের মুখে।
অব্যাহত এই পরিস্থিতি পোলট্রি খাতের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে বিপন্ন করছে বলেও সতর্ক করেছে সংগঠনটি।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে শনিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এমন মন্তব্য আসে।
বিপিএর সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার জানান, কয়েকটি বড় কর্পোরেট গ্রুপ, তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির কিছু সদস্য ও অসাধু ব্যবসায়ীর সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেট পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ক্ষুদ্র খামারি ও ভোক্তাকে উভয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তিনি আরও বলেন, গত ৭ মাসে উৎপাদন খরচের তুলনায় প্রতি কেজি মুরগিতে ৪০–৫০ টাকা ও প্রতিটি ডিমে ৩–৪ টাকা লোকসান হচ্ছে।
রমজান ও ঈদে মুরগির বাচ্চার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ৩০ টাকা থেকে ৮০–৯০ টাকা হয়েছে। এমনকি বাজারে মুরগি পৌঁছার আগেই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয় এই সিন্ডিকেট, ফলে খামারিরা খাদ্য, বাচ্চা ও ওষুধ উচ্চমূল্যে কিনতে বাধ্য বলেও জানান সুমন হাওলাদার ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, খামারিরা ঋণ বোঝা, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও বাজারে সিন্ডিকেটের আধিপত্যের কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অনেক খামার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
বিপিএ ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। এ সব দাবি হচ্ছে—প্রান্তিক খামারিদের জন্য কৃষক কার্ড; সিন্ডিকেট ও কর্পোরেট আধিপত্যের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত; খাদ্য, বাচ্চা ও ওষুধের বাজারে স্বচ্ছতা; প্রান্তিক খামারির জন্য ন্যায্য মূল্য ও সুরক্ষা; বাজারে স্থিতিশীলতা ও সিন্ডিকেটমুক্ত ব্যবস্থা; সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি বাপ্পি কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খন্দকার, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাউসার আহমেদ।