প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬ ১০:৩২ এএম
আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৬ ১০:৩৬ এএম
ঈদ উপলক্ষে নগরীর গাউছিয়া মার্কেটে ইমিটেশন বা নকল সোনার গয়নার বিকিকিনি বেড়েছে। দোকানে এক নারী ক্রেতাকে অলংকার পছন্দ করতে দেখা যাচ্ছে। ছবি: আলী হোসেন মিন্টু
ঈদুল ফিতর যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজধানীর মার্কেটগুলো নতুন রঙে, নতুন আলোয় প্রাণ পেয়েছে। সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গে ফুটপাত থেকে শুরু করে ঝলমলে শপিং মল—সবখানেই উৎসবের ঢেউ। আলো, কোলাহল আর মানুষের ভিড়ে শহর যেন এক অন্য রূপে ধরা দিচ্ছে। সেই ভিড়ের বড় অংশজুড়ে রয়েছেন নারী ক্রেতারা, যাদের উৎসবের প্রস্তুতি চোখে পড়ার মতো।
গয়নার প্রতি নারীর আকর্ষণ চিরন্তন। কিন্তু স্বর্ণের দাম এখন আকাশচুম্বীÑ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তাই অনেকেই ঝুঁকছেন ইমিটেশন গয়নার দিকে। বাজারের অলিগলি থেকে বড় শোরুম সব জায়গায়ই ঝলমলে নানান রকম ডিজাইনের কানের দুল, নেকলেস, চুড়ি সাজানো তাকগুলো ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। কেউ হাতে গয়না তুলে আয়নার সামনে মিলিয়ে দেখছেন, কেউ বন্ধুর মতামত নিচ্ছেন।
ক্রেতাদের মতে, স্বর্ণের গয়না যেমন দামি, তেমনি সব জায়গায় ব্যবহার করাও ঝুঁকিপূর্ণ। ইমিটেশন গয়না দেখতে স্বর্ণের মতোই দৃষ্টিনন্দন, আবার দামও অনেক কম। অল্প খরচেই তারা নতুন ডিজাইনের গয়নায় নিজেকে সাজাতে পারছেন।
ব্যবসায়ীদের মতে, উৎসবের মৌসুমে ইমিটেশন গয়নার চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই বাজারে নতুন ডিজাইন নিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। সময়ের চাহিদা, ফ্যাশন আর সাধ্যের সমন্বয়ে ইমিটেশন গয়না এখন অনেক নারীর পছন্দের শীর্ষে।
রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকা, বসুন্ধরা গেট এবং আশপাশের ফুটওভার ব্রিজের ফুটপাত ঘুরে দেখা গেছে, সারি সারি দোকানে সাজানো নানা ধরনের ইমিটেশন গয়না। প্রতিটি দোকানের সামনে নারী ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ে। কেউ নাকের ফুল বেছে নিচ্ছেন, কেউ কানের দুল, আবার কেউ হাতের বালা বা গলার চেইন। অনেকেই গয়না হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখেন, দামদর দেখে কিনছেন।
ফুটওভার ব্রিজের ওপর ইমিটেশন গয়নার দোকান বসিয়েছেন সাইফুল নামের এক বিক্রেতা। তিনি বলেন, ঈদের বাজার শুরু হওয়ার পর থেকেই বিক্রি ভালো। ইফতারের আগে এবং রাতের দিকে ক্রেতাদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। এবার নতুন অনেক ডিজাইনের মাল নিয়ে এসেছি। আগের তুলনায় ক্রেতাও বেশি আসছে। কিছু আইটেমের দাম বেড়েছে, তবে ভালো মানের পণ্যের জন্য মানুষ কিনছে।
বিক্রেতাদের মতে, আগে যেসব গয়না ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন দাম কিছুটা বেড়ে গেছে। তবু ক্রেতাদের আগ্রহ কমেনি। এখন ৩০ বা ২৫ জোড়া কানের দুলের বক্স পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। ভালো মানের হাতের চুরি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়।
শুধু তরুণী বা নারী নয়, অনেক অভিভাবকও তাদের সন্তানদের জন্য অলংকার কিনছেন। বসুন্ধরা গেটের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছোট মেয়ের জন্য সোনালি চেইন দেখছিলেন বকুল নামের এক ক্রেতা। তিনি বলেন, ছোট বাচ্চার গলায় চেইন দিতে চাই। আগে যেগুলো ১২০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন ১৫০ টাকা চাইছে। তবু কিনতে হয়।
ক্রেতা মুশফিকা বিনতে হাবিবা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমার দুটো কানের দুল পছন্দ হয়েছে। জামার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে নিচ্ছি। দাম মোটামুটি ভালোই। ঈদে পরার জন্য নিচ্ছি।
এদিকে স্বর্ণের দামও বেড়েছে। গত সোমবার দাম কমানোর পর মঙ্গল ও বুধবার আবার বেড়েছে। ২২ ক্যারটের ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকায়। এর আগে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ছিল ভরিপ্রতি ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা। অর্থাৎ এক দিনে ভরিপ্রতি দাম বেড়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা। একই সঙ্গে বেড়েছে রুপার দামও। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এ তথ্য জানিয়ে গতকাল বুধবার সকালে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।