বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬ ১৪:২০ পিএম
বগুড়া শহরের করতোয়া কনভেনশন সেন্টারে শুক্রবার বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের আর্থিক অনুদান এবং সাংবাদিকদের সন্তানদের মধ্যে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করেন তথ্যমন্ত্রী তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। তার মতে, রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা থাকলে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার এমন পরিস্থিতিতে পড়ত না।
বগুড়া শহরের করতোয়া কনভেনশন সেন্টারে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের সাত জেলার সাংবাদিকদের আর্থিক অনুদান এবং সাংবাদিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের মধ্যে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের জন্য নেওয়া এসব উদ্যোগ কোনো দয়া বা অনুদান নয়; বরং এটি গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার একটি প্রচেষ্টা।
তিনি জানান, বগুড়াবাসী দীর্ঘদিন যেসব অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, সেগুলো তালিকা করে ধাপে ধাপে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি বগুড়া প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ ভবন নির্মাণের দায়িত্বও তিনি নিয়েছেন।
গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীন গণমাধ্যম জরুরি
তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ। আধুনিক সভ্যতায় গণমাধ্যম ছাড়া সমাজের অগ্রগতি কল্পনা করা যায় না। গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে এবং রাষ্ট্রের কার্যক্রম জনগণের সামনে তুলে ধরতে স্বাধীন গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের সব কর্মকাণ্ড আয়নার মতো তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।”
একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ও সময়োপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারও করা হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের বয়স এখনও এক মাসও পূর্ণ হয়নি। তবে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কল্যাণে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন।
এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, কৃষক কার্ড চালু এবং কৃষিঋণ মওকুফের মতো কর্মসূচি রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছিরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের দেওয়া অর্থ কোনো অনুদান নয়, এটি তাদের প্রাপ্য। গত ১৭ বছরে সাংবাদিকরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কলম দিয়ে লড়াই করেছেন এবং সেই সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাংবাদিক নেতা গণেশ দাসসহ অনেকে।
এ সময় রাজশাহী বিভাগের সাত জেলার ৫১ জন সাংবাদিককে আর্থিক সহায়তা এবং ৪৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তির চেক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সাঈদ।