প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬ ১১:৪৩ এএম
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ফাইল ছবি
রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) দপ্তরে ঢুকে কর্মকর্তাদের গালাগাল, চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বি এম আলমগীর কবিরের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ঢাকা অঞ্চলের ‘কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম মজুমদার।
রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে বুধবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় আলমগীর কবিরের নেতৃত্বে ১০–১২ জনের একটি দল কর্মকর্তাদের কক্ষে প্রবেশ করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেয়।
লিখিত অভিযোগে ড. কাইয়ূম মজুমদার জানান, বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটের দিকে আলমগীর কবিরের নেতৃত্বে ১০–১২ জন তার দপ্তরের ৭১৭ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করেন। ঢুকেই তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার কারণে অফিসে স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেছেন তিনি।
একই দিনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। পেঁয়াজ সংরক্ষণ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. মাহফুজুর রহমান ও অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. হাবিবউল্লাহকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিন উইংয়ের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, ঘটনার সময় তিনি পরিচালক (প্রশাসন) মো. হাবিবউল্লাহর কক্ষে ছিলেন। তখন হঠাৎ করে আলমগীর কবির সেখানে ঢুকে তাকে বাইরে ডেকে আনেন।
তিনি বলেন, “আলমগীর কবিরের সঙ্গে আরও ১০–১২ জন লোক ছিলেন। বাইরে ডেকে নিয়ে তিনি আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি বলেছি, আমার কাছে টাকা নেই- কিডনি বিক্রি করে টাকা দিতে হবে। এর আগেও তিনি আমার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিলেন।”
ড. মাহফুজুর রহমানের দাবি, শুধু তার কাছেই নয়, অধিদপ্তরের অন্য কর্মকর্তাদের কাছেও মাঝেমধ্যে এসে ‘চাঁদা দাবি ও হুমকি’ দেওয়া হয়। চাঁদা না দিলে ‘প্রাণনাশের হুমকিও’ দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শেকৃবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বি এম আলমগীর কবির। তিনি বলেন, “এরকম কোনও ঘটনা ঘটেনি। আমি খামারবাড়িতে গিয়েছিলাম। ড. মাহফুজের সঙ্গে আমার আগে থেকেই ভালো সম্পর্ক আছে। দেখা হলে আমরা হাসিখুশিভাবে কথা বলি। আমি তার সঙ্গে ইয়ার্কি করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “ডিরেক্টর (প্রশাসন)-এর কক্ষে গিয়ে আমি শুধু সালাম দিয়ে এসেছি। এছাড়া প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ করেন। আমাদের দলের কিছু লোককে সেখানে যুক্ত করার জন্য কথা বলেছিলাম। তিনি সাড়া দেননি, তাই আবার কথা বলার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম।”
ড. কাইয়ূম মজুমদার সম্পর্কে আলমগীর কবির বলেন, “তিনি আওয়ামী লীগের দোসর।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি দপ্তরে এ ধরনের ঘটনা তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, “আমি অফিসে ছিলাম না, ওই সময় মন্ত্রণালয়ে একটা মিটিংয়ে ছিলাম। তবে আমাদের কর্মকর্তার সঙ্গে ছাত্রদল নেতা খারাপ আচরণ করেছে বলে শুনেছি। বিস্তারিত শুনে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব। কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় যা যা করণীয় সব করা হবে।”