মাসুদ রানা
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬ ০৯:৩২ এএম
১৯৭১ সালের ১২ মার্চেও ভবনে ভবনে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়।
স্বতঃস্ফূর্তভাবে সারা দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত থাকে। ১৯৭১ সালের ১২ মার্চেও ভবনে ভবনে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়। সিএসপি ও ইপিসি সমিতি অসহযোগ আন্দোলনে সমর্থন জ্ঞাপন করে।
স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এই দিন সরকার প্রদত্ত সকল খেতাব ও পদক বর্জন আহ্বান জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলে, সকল সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে পাকিস্তান শব্দ থাকলে তা পরিবর্তন করে বাংলাদেশ করতে হবে। এর পরই জাতীয় পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুদ্দীন পাকিস্তানি খেতাব বর্জন করেন।
১২ মার্চ এয়ার মার্শাল আসগর খান ঢাকা থেকে লাহোরে পৌঁছে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আসলামের নামে প্রতিষ্ঠিত একটি রাষ্ট্র যদি মাত্র ২৩ বছরের মধ্যে বিলুপ্ত হইয়া যায় তবে আমাদের ধর্মীয় ইতিহাসে ইহাই হইবে সবচেয়ে দুঃখজনক।”
এই দিন ভুট্টো বলেন, “পাকিস্তানের অখণ্ড ও সংহতি রক্ষার জন্য আমার দল সব রকমের সাহায্য করতে প্রস্তুত। আমি ক্ষমতা লোভী নই।”
১২ মার্চ চট্টগ্রামমুখী খাদ্যবোঝাই একটি মার্কিন জাহাজ হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে করাচির উদ্দেশে রওনা দেয়। পূর্বঘোষণা ছাড়াই এমন সিদ্ধান্তে জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। সে সময় দেশে খাদ্যসংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এ ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়। এ ঘটনার পর ক্যাপ্টেন মনসুর আলী গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন এবং এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের জন্য নির্ধারিত খাদ্যসামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে তা জনস্বার্থের পরিপন্থী হবে এবং এতে সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে।
এই দিনে রাজশাহীতে ওস্তাদ আবদুল আজিজ বাচ্চুর প্রতিষ্ঠিত সুরবাণী সংগীত বিদ্যালয়ের শিল্পীদের উদ্যোগে জেলার অন্যান্য শিল্পী, সাংবাদিক ও সাহিত্যিকরা স্বাধীনতার স্বপক্ষে গণসংগীত পরিবেশন করেন। পুরো আয়োজনটি ছিল প্রতিবাদ, প্রত্যয় ও দেশপ্রেমের এক সম্মিলিত প্রকাশ।
১২ মার্চ বগুড়া কারাগার থেকে দুইজন দণ্ডিত কয়েদি ও ২৫ জন বিচারাধীন আসামি পালিয়ে যান। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত হন ও প্রায় ১৬ জন আহত হন। এ ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বগুড়ায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
খুলনায় এক জনসভা শেষে জুলফিকার আলী ভুট্টোর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। সমাবেশে বক্তারা তার বক্তব্য ও ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন এবং গণ-আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
মুক্তি সংগ্রামের সন্ধিক্ষণে আরও বাস্তবমুখী প্রত্যক্ষ কর্মসূচি গ্রহণের জন্য ‘লেখক সংগ্রাম শিবির’ নামে একটা সংস্থা গঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে শিল্পীদের এক সভায় শিল্পী কামরুল হাসান ‘শাপলা ফুল’কে জাতীয় ফুল হিসেবে প্রস্তাব করেন। সভায় প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। শিল্পী মুর্তজা বশীর ও কাইয়ুম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘চারুশিল্প সংগ্রাম পরিষদ’।
পাকিস্তান বাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়ে। ক্যান্টনমেন্টের বাইরে তাদের তেমন গতিবিধি ছিল না।