× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জ্বালানি তেল বিক্রির শর্ত শিথিল, বাড়বে সরবরাহ

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬ ০৮:৪৯ এএম

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫২ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি সংকট এড়াতে গত ৮ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রির নির্দেশ দেয় সরকার। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি সংকট এড়াতে গত ৮ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রির নির্দেশ দেয় সরকার। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

সরবরাহ বাড়াতে জ্বালানি তেল (অকটেন ও পেট্রোল) বিক্রিতে নির্ধারিত সীমা পরিবর্তন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। আগে চাহিদার ২৫ শতাংশ কম সরবরাহের নির্দেশনা দিয়েছিল বিপিসি। গতকাল বুধবার এই শর্ত কিছুটা শিথিল করে বিক্রির সীমা ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিপিসি জানিয়েছে, এর ফলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সৃষ্ট সংকট অনেকটাই কাটবে। 

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় দেশে জ্বালানি সরবরাহের লাগাম টেনে ধরে সরকার। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট এড়াতে গত ৮ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি শুরু করা হয়। এতে করে দেশের পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে ব্যবহারকারীদের। চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সরবরাহ না হওয়ায় অনেক পাম্প তেল দিতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে তেল বিক্রির নতুন নির্দেশনা দিল বিপিসি। 

উল্লেখ্য, সারা দেশে ২ হাজার ৩০০ তেলের পাম্প আছে, যার মাধ্যমে যানবাহনে তেল বিক্রি করা হয়। 

গতকাল বিপিসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বিভাগীয় শহরে জ্বালানি তেলের (অকটেন ও পেট্রোল) গড় বিক্রি ২৫% কমানোর পরিবর্তে বর্তমানে ১৫% কমিয়ে ফিলিং স্টেশন প্রতি বরাদ্দ চার্ট অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। 

বিপিসি সূত্র বলেছে, দেশে জ্বালানি তেলের যে মজুদ আছে, তাতে মার্চ পর্যন্ত দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। মে ও জুনে যাতে সরবরাহ বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য তেল ক্রয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ভারত থেকে ৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্য বিকল্প উৎস থেকেও আমদানির চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। 

মার্চে জ্বালানি তেলের সংকট হবে না বলে মনে করছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আমদানি ব্যাহত হতে পারে, পিছিয়ে যেতে পারে জাহাজ আসার সময়। কেউ কেউ সরবরাহে অপারগতা প্রকাশ করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে চাহিদামতো জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করতে চুক্তির বাইরে নতুন উৎস খুঁজছে সরকার। জ্বালানি বিভাগের সূত্র বলছে, জুন পর্যন্ত পরিশোধিত জ্বালানি কেনার চুক্তি করা আছে। তবে অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহকারীরা তেল পরিশোধন করতে সংকটে পড়বে। সে ক্ষেত্রে আগামী মে মাসে তারা চুক্তি অনুসারে তেল সরবরাহে ব্যর্থ হতে পারে। তাই সরকারি পর্যায়ে জিটুজি বা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বা সরাসরি প্রক্রিয়ায় তেল কেনার চিন্তা করা হচ্ছে।

জ্বালানি তেল নিয়ে আসছে একের পর এক জাহাজ 

এদিকে সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার ৫ টন ডিজেল নিয়ে দেশে এসেছে আরও একটি জাহাজ। ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের ওই জাহাজটি মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে দুই দিনের ব্যবধানে সিঙ্গাপুর থেকে ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ল। এর আগে গত সোমবার সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে ‘শিউ চি’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসে।

জ্বালানি তেল নিয়ে আরও তিনটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে রওনা করেছে বলে জানিয়েছেন বিপিসির ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা। বিপিসির মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ জানান, আগামী চার দিনের মধ্যে আরও ৩টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছবে। এর মধ্যে দুটি জাহাজ আসবে মালয়েশিয়া থেকে। অন্যটি আসবে সিঙ্গাপুর থেকে। 

প্রসঙ্গত, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ২০ শতাংশ পরিবহন হয় ইরানের হরমুজ প্রণালী দিয়ে। তবে এ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশের বেশিরভাগ জাহাজ আসে। যুদ্ধ শুরুর দুই দিন পর এটি বন্ধ করে দেয় ইরান। ঝুঁকি থাকায় দিনে কয়েকটির বেশি জাহাজ পার হচ্ছে না এখন। বাংলাদেশের পণ্যবাহী জাহাজ নিরাপদে পার হতে দিতে ইরানকে অনুরোধ করেছে সরকার। ইরান সরকার আশ্বস্ত করেছে, বাধা দেওয়া হবে না। এতে করে এ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন করা গেলে সরবরাহ বাড়তে পারে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা